ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী যেন মাদকে ছেয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদকের কারণে বেড়েছে ছিনতাই, চুরি ও পকেট কাটার মতো ঘটনা। গত ১৫ দিনে চুরি, ছিনতাই ও পকেট কাটার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। চুরি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীসহ অনেকেই।
গত ৫ অক্টোবর ভোরে চুরি হয় নাগর মহল রোডের এস এন টাওয়ারের থান কাপড় ব্যবসায়ী মো. কোরবানের দোকানে। দোকানটির ক্যাশবাক্স ভেঙে দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তদন্ত চলছে, তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার অথবা টাকা উদ্ধার হয়নি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তানাকা সুপার মার্কেটের সামনে। রিকশা থামিয়ে এক নারীর ব্যাগ নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ওই ব্যাগে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার অথবা ছিনতাই হওয়া জিনিস উদ্ধার করা যায়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এর কিছুদিন আগেও আগানগরে স্বাধীন টাওয়ারের সামনে ভর দুপুরে এক নারীর কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। গত ৪ অক্টোবর বেড়িবাঁধ রোডে নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণরত ৭ মুসল্লির মোবাইল ফোন খোয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, উল্লিখিত কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ গেলেও চুরি-ছিনতাইয়ের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল মিলছে না। জড়িত কেউ আটক কিংবা মালামাল উদ্ধার হচ্ছে না।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঞ্জের নাগর মহল রোড ও নামাপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি মার্কেটে ও ভবনে গড়ে উঠেছে মাদকের আখড়া। এসব জায়গায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে সহজলভ্য হচ্ছে ইয়াবা। মাদকের প্রসারের কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়েছে বলে মত এলাকাবাসীর। আর মাদক সেবন ও কারবার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মাদক কারবারে যারা জড়িত তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেয়। অনেক মাদক কারবারি আবার নিজেকে র্যাব-পুলিশের সোর্স বলে দাবি করে।
সন্ধ্যার পরপরই বিভিন্ন মার্কেটের অলিতেগলিতে মাদক বিক্রি শুরু হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার করে আসছে, তবুও এদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো জোরালো অভিযান নেই। এছাড়া চুরি-ছিনতাই রোধে গার্মেন্টস মালিক সমিতিরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ‘আগে আমাদের এখানে একটা পুলিশ ফাঁড়ি ছিল, এখন সেটা নেই। পুলিশ ফাঁড়ি এখান থেকে সরানোর পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হয়েছে।’
গার্মেন্টস পল্লীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
একই বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাব উদ্দিন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’