করোনা মহামারিতে দীর্ঘ বিরতির পর খুলে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলসমূহ। রবিবার সকাল ১০টা থেকে হলে প্রবেশ করতে শুরু করে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘ বন্ধের পরও হলের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
রবিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের জন্য অপেক্ষারত থাকতে দেখা যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম, হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. রওশন জাহিদ ও আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. লিয়াকত আলী, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. মো. আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারা শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সময় ফুল, মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং চকলেট দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হলে প্রবেশ করেই শিক্ষার্থীরা যার যার রুম পরিচ্ছন্নের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী আল হাসান সাব্বির বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ায় আমরাও প্রতীক্ষায় ছিলাম কবে আমাদের হল খুলবে। দীর্ঘদিন পর আজ হল খুলেছে। হলে এসে বন্ধু, বড় ভাইদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এত দিন পর হলে এসে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।
এদিকে, দীর্ঘ বন্ধের মধ্যেও হল সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, সংস্কারের কথা বলে এত দিন হল খোলার উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অথচ এখনো বেশ কয়েকটি হলের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়নি। অনেক জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও ঠিকভাবে করা হয়নি। বেশ কয়েকটি হল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন হলে রং করার কাজ চলমান। হলের রিডিং রুম, ডাইনিং, ক্যানটিন ও মসজিদ রুমগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চললেও ওয়াশ রুমগুলো সেই আগের মতোই অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে রাবির ১৭টি আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের সার্বিক সংস্কারের জন্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে হলগুলোর কাছ থেকে চাহিদা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে অনুযায়ী প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে প্রত্যেক হলের সংস্কারের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এফসি কমিটির মিটিং ও সিন্ডিকেট না হওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু করতেই বিলম্ব হয়ে গেছে। তবে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শেষ হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জানতে চাইলে আবাসিক হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির আহ্বায়ক ড. জুলকার নায়েন বলেন, আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের রুমের ভেতরের অবস্থা এখনো আমরা জানতে পারিনি। তবে বিভিন্ন কমন স্পেস, ওয়াশ রুম, ডাইনিং-ক্যানটিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে কাজ শুরু হতেই দেরি হয়েছে। দ্রুতই আমরা কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।