ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে হবিগঞ্জ ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতা কর্মীরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। রবিবার সকাল ৬টা থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক দিয়ে রাস্তা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ চলাকালে জেলা সদর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুট ও অভ্যন্তরীণ রুটে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
ট্রাক ও ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম জানান, গত ১৩ অক্টোবর হবিগঞ্জ শহরে কোর্ট স্টেশন এলাকায় একটি ট্রাকের কাগজপত্র নবায়ন থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হোসেনুজ্জামান ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যান। তিনি ১২ হাজার টাকা জরিমানা করলে ট্রাক চালক কাগজপত্র দেখানোর পরেও কেন জরিমানা দিতে হবে জানতে চান। পরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ৮ হাজার টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন।
বিষয়টি শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওযায় রবিবার ভোর থেকে শ্রমিক ও মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা ট্রাক এলোপাতারীভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকেরা জানান বর্তমান ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হোসেনুজ্জামান গত এপ্রিল মাসে যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। তারা ট্রাফিক ইন্সপেক্টরকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হোসেনুজ্জামান বলেন, কাগজপত্র না থাকায় ওই ট্রাকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়। মামলা করায় তারা বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নেননি।
তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।