শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চবি ছাত্রলীগের ১২ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

গত কয়েক দিনে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের ১২ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদের মধ্যে দুজনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিষয়টি সোমবার দুপুরে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

বহিষ্কৃতরা হলেন শাখা ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সিক্সটি নাইন গ্রুপের অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ২০১৯-২০ সেশনের মো. নাঈম, একই সেশনের বাংলা বিভাগের সাইফুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের আশরাফুল আলম নায়েম, একই সেশনের পরিসংখ্যান বিভাগের আকিব জাভেদ, ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের জুনায়েদ হোসেন জয় এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের  ফরহাদ।

এদের মধ্যে নায়েমকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির এবং চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ ছাড়া বাকি ৬ জন হলেন শাখা ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সিএফসি গ্রুপের অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মির্জা খবির সাদাফ, একই বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের খালেদ মাসুদ, লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের অহিদুজ্জামান সরকার, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের আরিফুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের তানজিল হোসেন ও আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের তৌহিদ ইসলাম।

এদের মধ্যে সাদাফকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারে সভাপতিত্বে রবিবার রাত ১০টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় গত চার দিনের ঘটনায় দু’পক্ষের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাইবাছাই করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের মেয়াদ আজ থেকেই কার্যকর হবে। এ সময় বহিষ্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলে অবস্থান করতে পারবে না।

তবে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নে চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর তারা কেউ শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নন, তাই সংগঠন থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

জানা যায়, ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের এক কর্মীকে মারধরের ঘটনায় রাতেই সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন ও সিএফসি গ্রুপ। এর জেরে পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সিএফসির কর্মীরা আমানত হলে প্রবেশ করতে গেলে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালালে সিএফসির কর্মী আরাফাত আহত হন।

এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মী  নাদিম হায়দারকে সিএফসির কর্মীরা। পরবর্তীতে নাদিম হায়দারকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনকে মারধর করে সিএফসির কর্মীরা। একই ঘটনার জেরে সর্বশেষ রবিবার বিকেলে শাহ আমানত হলের সামনে সিএফসি নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আল আমিন রিমনকে একা পেয়ে মারধর করে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা।