আখাউড়া স্থল বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগে পণ্য পরিবহন বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থল বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদে আমদানি করা পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি করা মালামাল আনলোড করতে ট্রাক আসতে দিচ্ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ।

ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি করা বহু ভারতীয় ট্রাক আটকে পড়ে আছে। আমদানিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা।

এর আগে গত (৭ অক্টোবর) আখাউড়া প্রভাবশালী ১১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপি পেশ করে জেলার ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠন।

আখাউড়া স্থলবন্দরের জেকে ট্রেড ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল মিয়া জানান, আখাউড়া স্থলবন্দরে ট্রাক প্রবেশ করতে নিষেধ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ।

তারা বলছে সমস্যা আছে আজকে যেন কোনো ট্রাকে লোড আনলোড করা না হয়। এ কারণে কোনো ট্রাক ড্রাইভার মালামাল পরিবহন করতে চাচ্ছে না।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোবারক হোসেন জানান, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যবাহী ট্রাক স্থলবন্দরে প্রবেশ করছে কিন্তু তা খালাস করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ট্রাক আমাদের এখানে নেই।আমাদের মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রান্সপোর্ট রয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ স্থলবন্দরে কোনো ট্রাক আসতে দিচ্ছে না। ফলে আমদানিকৃত মালামাল পরিবহনে স্থলবন্দরে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর কর্মকর্তা (ট্রাফিক)মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে মঙ্গলবার দুপুর একটা পর্যন্ত ভারত থেকে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক স্থল বন্দরে প্রবেশ করেছে। তবে তার বিপরীতে পণ্য খালাস করতে স্থলবন্দরে ৩টি খালি ট্রাক প্রবেশ করেছে যা অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ট্রাক-পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন খোকন বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে আখাউড়া স্থলবন্দরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিচার চেয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম তার সময় শেষ হয়েছে।

‘কোন ব্যবস্থা না নেওয়া তাই আমরা আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছি। যদি কোন সমাধান না হয় তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারাদেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখা হবে।’