দুই উপজেলার রশি টানাটানিতে আটকে আছে স্থলবন্দর

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হলেও স্থলবন্দরটি এখনো স্থবির হয়ে পড়ে আছে।

২০০২ সালে দর্শনায় একটি স্থলবন্দরের ঘোষণা দেওয়া হলেও দীর্ঘ ১৯ বছর পর এখনো স্থলবন্দরটি অন্ধকারেই রয়েছে। এরই মধ্যে স্থলবন্দর চালু করতে বাংলাদেশ ও ভারত অংশে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে উভয় দেশের সরকার।

এদিকে একই উপজেলার জীবননগরের দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দরের ঘোষণা ২০১৩ সালে হলেও ঘোষণার ৮ বছর পার হলেও স্থলবন্দরের দুই অংশে এখনো অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। প্রস্তাবিত এই স্থলবন্দরটিও স্থবির হয়ে পড়ে আছে।

তবে নিজ উপজেলায় স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে ‘বন্দর বাস্তবায়ন কমিটি’ এরই মধ্যে গঠন করেছে উভয়ে। কমিটি তাদের মতো করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থলবন্দরের অভাবে এই অঞ্চলসহ আশপাশের ব্যবসায়ীদের বেনাপোল দিয়েই পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পণ্য আমদানিতে বেশি খরচ পড়ছে, সময়ও বেশি লাগছে।

জেলার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চুয়াডাঙ্গায় স্থলবন্দর হলে কলকাতার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমবে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকায় যেতে যে সময় লাগে, চুয়াডাঙ্গায় স্থলবন্দর হলে সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা কমে আসবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দামুড়হুদা ও জীবননগর এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। দর্শনা ও দৌলতগঞ্জ দুটি স্থলবন্দরই পড়েছে দুই উপজেলায়। আর জেলার ২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর এই দুটি উপজেলা থেকে জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রচুর ভোট পেয়ে থাকেন।

ভোট হারানোর ভয়ে দর্শনায় স্থলবন্দর নাকি দৌলতগঞ্জে স্থলবন্দর হবে, তা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কারও সাথেই তেমন কোনো কথা বলেন না এমটি টগর। ফলে স্থলবন্দর নিয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও জাতীয় সংসদে ২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী বক্তব্য দেবার সময় স্থলবন্দরের দাবি অস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

দর্শনা স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, দর্শনায় কাস্টমস ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট রয়েছে। স্থলবন্দর হলে এই অঞ্চলের শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

তিনি আরও বলেন, দর্শনায় রয়েছে আন্তর্জাতিক রেল স্টেশন। মৈত্রী ট্রেনও চলে এই রুটে। এখন শুধু সড়কপথে আমদানির ব্যবস্থা করলে পণ্য আমদানি আরও সহজ হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান হবে।

দর্শনা স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক রেজাউল করিম লিটন বলেন, দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার পাসপোর্টধারী ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করে। ঢাকা কলকাতা চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস এই রুটে চলাচল করে। স্থলবন্দর হলে ট্রাক-লরি ভাড়া এবং বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হবে। সেই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের (দামুড়হুদা-জীবননগর) সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর মুঠোফোনে বলেন, দর্শনাতে অথবা জীবননগর দৌলতগঞ্জে যেখানেই স্থলবন্দর হোক দুটিই ব্যবসায়ীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে কোন উপজেলায় স্থলবন্দর হলে জেলার মানুষ উপকৃত হবে এমন প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘দর্শনা ও দৌলতগঞ্জ দুই জায়গায় স্থলবন্দর জরুরি। এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। তবে স্থলবন্দর বাস্তবায়ন করতে হলে সবার মধ্যে সমন্বয় জরুরি।