ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের লোয়ার পারোলের লালবাগ এলাকার অভিজ্ঞা পার্ক সোসাইটির একটি বিলাসবহুল ৬৪ তলা ভবনে শুক্রবার দুপুরে আগুন লেগেছে। ভবনের ১৯ তলায় প্রথম আগুন লাগে।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের ২০টি ইঞ্জিন। বহুতলে বেশ কয়েকজন বাসিন্দার আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দমকল বাহিনী আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোটা এলাকাটিই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৭ থেকে ২৫ তলা অবধি আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকলের ২০টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। ঘটনাস্থলে পৌছেছেন মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকর।
দক্ষিণ মুম্বাইয়ের এই অঞ্চলটি জনবহুল। একাধিক বড় বড় আবাসন ও দোকান রয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকাই কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় ৬৪ তলা ওই আবাসিক ভবন থেকে। কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় দাউদাউ করে জ্বলছে আবাসনের ১৯ তলা। আগুন উপর ও নীচের তলগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
এ দিকে, প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে এক বাসিন্দার পড়ে যাওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। আগুনের হাত থেকে বাঁচতেই ওই ব্যক্তি বারান্দা টপকে নীচে নামার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু হাত ফসকে পড়ে যান তিনি। দমকল বিভাগের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে কেইএম হাসপাতাসলে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম অরুণ তিওয়ারি (৩০)। তিনি ওই ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া। আগুন লাগার পর তিনি ১৯ তলায় গিয়েছিলেন আগুন নেভাতে।
বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের জেরে কারি রোডের রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে গোটা এলাকা। বিপত্তির আশঙ্কায় ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে আশেপাশের বাড়ি ও দোকান।
বিলাসবহুল আবাসিক ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানে খুব বেশি মানুষ নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দমকল জানিয়েছে, ১৯ তলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কমেছে।