শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু বসতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ১৪ বিশিষ্ট নাগরিক।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই নিন্দার পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বিবৃতিদাতারা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী, সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন, অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ সিকান্দার খান, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম, আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত, শিক্ষাবিদ মাহবুবুল হক, শিল্পী আবুল মনসুর, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, আনোয়ারা আলম, চিকিৎসক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, শিল্পী অলোক রায় এবং লেখিকা ফেরদৌস আরা আলীম।
বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিন ধরে দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব চলাকালে বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপে ও হিন্দু লোকালয়ে হামলা, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। এতে নাগরিক সমাজের অংশ হিসেবে তাঁরা লজ্জিত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
বিবৃতিতে বিশিষ্ট ১৪ নাগরিক বলেন, সব ধর্মের মানুষের অবদানে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে দেশ বঙ্গবন্ধুর মতো একজন উদার মানবতাবাদীর নেতৃত্ব লাভ করেছে, সে দেশে তাঁর কন্যার শাসনামলে এমন অমানবিক হিংসাত্মক ঘটনা অকল্পনীয়। এ ঘটনা তাঁদের উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও এই ভূখণ্ডের চিরায়ত চেতনা হলো উদার মানবতা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মিলিত জীবন সাধনা। তারই ফলাফল স্বাধীনতা এবং বর্তমান অগ্রগতি।
কতিপয় মানুষের সাম্প্রদায়িক আচরণের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিদাতারা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, উসকানিমূলক বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ ও লেখালেখির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানান।
বিবৃতিদাতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার আর সময়ক্ষেপণ না করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ ঘটিয়ে এই অপশক্তিকে প্রতিহত করবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা ও পুনর্বাসনের কাজের জন্য অনুরোধ জানান তাঁরা।
প্রতিবেশী অন্যান্য ধর্ম ও ভাষা সংস্কৃতির সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং স্বস্তিতে জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দায়িত্ব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।