সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না: মির্জা ফখরুল

সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আধিপত্যবাদী আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এত দিন কোথায় ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা সত্য ঘটনা সবাই এটা মেনে নিয়েছে যে, সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যে পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে, এই যে ইকবালের কথা কিছুক্ষণ আগে একজন বললেন। বলা যেতে পারে একটা অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবী তাকে ধরা হয়েছে। ইকবাল এত দিন কোথায় ছিল? কারা তাকে সেখানে নিল?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার প্রতিমুহূর্তে জনগণকে বিভ্রান্ত ও বিভাজিত করার চেষ্টায় আছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষে শক্তি এবং গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তির কথা বলে তারা এখন ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিস্ট সরকার আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের ঐক্য ছাড়া ফ্যাসিস্ট শাসককে সরানো সম্ভব হয় না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনতার ঐক্যের মাধ্যমে এদের সরাতে পারি। এছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

মঞ্চে পাশে বসা জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ অনেকে আমার পাশে আছেন, যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনের সময় যদি সরকার নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ বাতিল করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ফারুক রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লৎফুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলী, রামকৃষ্ণ সাহা, যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির, আব্দুর রহমান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জহুরা খাতুন জুঁই প্রমুখ।