কক্সবাজারে রাজারবাগ পীরের নাম ভাগিয়ে ১৫০ একর জমি ভুয়া দলিল তৈরি করে দখলে নেয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু তাই নয়, উক্ত জমিতে দু’শ থেকে তিন’শ পরিবারের অসহায় গরিবদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একমাত্র থাকার জায়গা দখল নিতে একের পর এক মিথ্যা মামলা, জাল দলিল তৈরি করে স্বত্ব দাবি, এমনকি ভাড়াটে খুনি রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের এলাকা এবং ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে গ্রামবাসীর পক্ষে বয়োবৃদ্ধ জিন্নাত আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন রাজারবাগী পীরের সহচর আনিচুর রহমানসহ মিলে অচিতার বিল মৌজায় প্রায় দু’শ থেকে তিন’শ পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জোর করে ১৫০ একর জমি দখল করে রেখেছে। যেখানে তারা ব্রিক ফিল্ডও বানিয়েছে। এখনো তাদের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এতে আরও অভিযোগ করা হয় রাজারবাগী পীর ও তার মুরিদ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা তাদের গ্রামের তিন’শ একর জমি ও ভিটা বাড়ির জায়গা দখল করে নেয়। গ্রামের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণহারে মামলা করে। অনেকেই মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলে হাজত খাটতে হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তারা সরকারের কাছে এই রাজারবাগী পীরের ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিকার কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে জিন্নাত আলী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে লামা উপজেলা সাব-রেজি. অফিস ও বান্দরবান জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের নাম ব্যবহার করে ২০টি জাল দলিল তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে এই রাজারবাগী পীরের অনুসারীদের অপকর্মে। এসব হীন অপকর্মে বিক্রেতা ভুয়া, ক্রেতা রোহিঙ্গাদের বানিয়েছে। এই কুকর্মের কাজে চকরিয়ার বাসিন্দা ডুলাহাজার মোসলেম উদ্দিন, মুজিবুল হক, বশির, বনফুর বাজারের লুতফুর রহমান ও মাস্টার বদরুদ্দোজারা জড়িত। তার মতে এরা সবাই রাজারবাগী পীরের অনুসারী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লাদেন মৌলভী (আনিসুর রহমান) স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের নাম ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতন করে আসছেন।
যেটিকে মানবতা বিরোধী গর্হিত কাজ উল্লেখ করে জিন্নাত আলী বলেন, ঘরবাড়ি, নির্যাতন থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে গত ১৪ অক্টোবর উত্তর বন বিভাগের কর্মীদের দিয়ে মসজিদ, ঘরবাড়ি এবং কবরস্থান পর্যন্ত ভেঙে দেয় অথচ এখানে বনভূমির জায়গা নেই। আমরা যেখানে থাকি সে জায়গা হচ্ছে সরকার বাহাদুরের নামে ১ নম্বর খাস খতিয়ান।
বয়োবৃদ্ধ জি এ কুতুবী সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশা করেন ঘটে যাওয়া রাজারবাগী পীরের অনুসারীদের অন্যায়ের বিচার পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড ও উপকূলীয় কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।