বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে কথা বলে না। কারণ, তারা তো উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছেন। তারা বাংলাদেশের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। সব দিক থেকে বাংলাদেশ একটি অশান্তির দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে।’
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কৃষক দলের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বহু লোক না খেয়ে থাকে। বেশ কিছু ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে এসেছে, তারা না খেয়ে থাকার জন্য আত্মহত্যা করেছে। আজ ২০২১ সালে বহু লোক না খেয়ে মারা যাচ্ছে, এই কথাটি মিডিয়াতে আসে না। আজকে মিডিয়াকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। আজকে মানুষের কথা বলার অধিকার নাই। তাই অনেক কিছুই আমাদের দৃষ্টিতে আসছে না।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দয়া করে মুখ সামাল দিন। সামাল দিয়ে কথা বলবেন। নইলে কোথাও যদি আপনাদের একা পেয়ে যায় পাবলিক, তাহলে কিন্তু পালাতে পারবেন না। কথা বলার সময় সাবধানে কথা বলবেন। বিএনপির লোকেরা কিন্তু মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকে না।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়, এটা হচ্ছে রাজনৈতিক চক্রান্ত। দেশের মানুষের মুখে কুলুপ দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক চক্রান্ত। এই সরকার সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, এটি আমি বলব না। এ সরকার সামাজিক সম্প্রীতি চায় না।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা নির্বাচিত সরকার চাই। নির্বাচিত সরকার হলেই এই দেশের অশান্তি থামবে। নির্বাচিত সরকার এদেশের ভালো-মন্দ দেখবে। আওয়ামী লীগকে দিয়ে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।’
সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষকদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লাল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এমপি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।