বাংলাদেশে লেগ স্পিনাররা বরাবরই অবহেলিত। বিশ্বকাপ দলে একজনও লেগ স্পিনার নেই। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে রিজার্ভ হিসেবে আমিরাতে এনেও আবার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাই নেটে লেগ স্পিনের বিপক্ষে নিজেদের পরখ করারও সুযোগ নেই ব্যাটারদের। যার ফলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভুগতে হয়েছে ক্রিস গ্রেভিসের লেগ স্পিনে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লেগি ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে সফলভাবে সামলানো গেছে। এবার অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। হাসারাঙ্গার চেয়েও সফল ও ভয়ংকর আদিল রশিদের সামনে নাঈম-মুশফিকরা। ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে জিততে হবে রশিদ চ্যালেঞ্জ।
মূল পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের চিন্তা কমেছিল। রহস্যময় স্পিনার থিকসানা ছিলেন না ইনজুরির কারণে। শুধু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে ভাবতে হয়। এই লেগিকে দারুণভাবে সামলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তার ৩ ওভারে ৯.৬৬ গড়ে এসেছে ২৯ রান। কিন্তু রশিদ হাসারাঙ্গার চেয়েও বৈচিত্র্যময়। তার প্রমাণ প্রথম ম্যাচেই রেখেছেন এই লেগি। উইন্ডিজকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার ম্যাচে রশিদ ৪ উইকেট নেন মাত্র ২ রানে, ২.২ ওভারে। দুর্বোধ্য বোলিংয়ের স্পেল দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রশিদ নিঃসন্দেহে এ ম্যাচেও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন। হাসারাঙ্গার চেয়েও তার ঝুলিতে অস্ত্র বেশি। কবজির মোচড়ে শুধু লেগ স্পিনিংই করেন না, সঙ্গে উল্টো কবজির ঘোরানোয় ছাড়েন গুগলি। ডেলিভারি ছাড়ার ভঙ্গিটা একই হওয়ায় গুগলি পড়তে পারেন না বেশিরভাগ ব্যাটারই। তাছাড়া আর্ম ডেলিভারিও দিতে পারেন রশিদ। তার স্পিনে সবচেয়ে বিভ্রান্ত হন বর্তমান ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। মোট ৯ বার আউট হয়েছেন রশিদের বলে। চারবার টেস্টে, তিনবার ওয়ানডেতে আর দুবার টি-টোয়েন্টিতে।
বাংলাদেশের জন্য রশিদ একদম অচেনা নন। এর আগে ২০১৬ হোম সিরিজে রশিদের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে খেলেছেন সাকিব-মুশফিকরা। ওই সিরিজে রশিদ ছিলেন সফল। ৩ ওয়ানডেতে নেন ১০ উইকেট আর দুই টেস্টে ৭টি। পরে ২০১৯ বিশ্বকাপে নেন ১ উইকেট।
ম্যাচের ভেন্যু আবুধাবি এমনিতেই স্পিনারদের সহায়তা করে। এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে স্পিনাররা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন ব্যাটারদের। অবশ্য অ্যাডাম জাম্পা, কেশব মহারাজ ও তাবরেজ শামসিরা উইকেট পাননি বেশি। রশিদকে উইকেট না দিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশও। তার প্রস্তুতিটা হয়েছে হাসারাঙ্গাকে দিয়ে। যেভাবে আগের ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা গেছে এ লেগিকে, রশিদের সঙ্গেও সেই পরিকল্পনা থাকুক।