সাম্প্রদায়িক উসকানি-গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বী গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আশিক মল্লিক (৩০) নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, আশিক কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ফেইসবুক পেজ খুলে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সহযোগী অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দূল্লাহ আল মোমেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আশিক মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুজব ছড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ফার্মগেটে একটি কোচিং ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর একটি ফেইসবুক পেজ খুলে ওই পেজে এবং তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিতে থাকেন আশিক। তিনি নিজেই পেজের অ্যাডমিন এবং তার সমমনা আরও কয়েকজনকে পেজের অ্যাডমিন হিসেবে সংযুক্ত করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই পেজের সদস্য ও অনুসারী কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই ফেইসবুক পেজ থেকে কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল।

ওই ফেইসবুক পেজে প্রতিবেশী দেশসমূহে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার ভিডিও আপলোড করে জনমনে ভয়ভীতি তৈরিসহ উসকানি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযুক্ত আশিক মল্লিক প্রত্যেকটি পোস্ট হ্যাশট্যাগ করে দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।

যেসব গুজব ছড়ানো হয়

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, আশিক মল্লিক ও তার সহযোগীরা পার্বত্য জেলার একজন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি মিথ্যা তথ্য পোস্ট করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের হুমকি দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান’। নোয়াখালীতে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে পায়ের রগ কেটে পুকুরে ফেলে দিয়েছেন বলে অপপ্রচার করা হয় তাদের পেজে। এছাড়া অনেক আগের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর পুড়ে যাওয়াকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে অপপ্রচার করেন তিনি। 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে কয়েকটি পরিবারে অগ্নিসংযোগ ও গুপ্টি গ্রামে বসবাসরত বীরেশ্বর কর্মকারের বাড়িতে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে আগুন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারা পেজ থেকে গুজব ছড়ান।

র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, এসব গুজব ও অপপ্রচার ছাড়াও অভিযুক্ত আশিক গত কয়েক দিনে চলমান অপ্রীতিকর ঘটনায় চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছেও বলেও গুজব ছড়িয়ে দেয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা মোমেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে আশিক নিজে থেকেই ফেইসবুক পেজটি খোলেন। তবে সে অন্য কারও প্ররোচনায় অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল কিনা, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তার সহযোগীদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।