বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে হারার পর বোর্ড প্রেসিডেন্টের মন্তব্য আঘাত করে ক্রিকেটারদের। তার ওপর সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে মূলপর্বের আগে দলের অবস্থা বেশ খানিকটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর আবার সমালোচনা শুরু। ক্যাচ মিসের কারণে লিটন দাস সমালোচনায় পড়েন। একই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যার প্রতিবাদ করে কোচদের ওপর দায় চাপান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ফেইসবুক পোস্টে। এসব কিছুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যেন মাঠের নয়, মাঠের বাইরের লড়াই। তবে বিসিবি পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয় এসব কিছু ভুলে ক্রিকেটে মনোযোগী হতে বললেন ক্রিকেটারদের, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো গণমাধ্যম না। এটা স্বাভাবিক যোগাযোগ মাধ্যম। এখানে যে যেমন পারে তেমন বলছে। এটা নিয়ে ক্রিকেটারদের মাথা না ঘামিয়ে খেলায় ফোকাস করা উচিত। মাঠের বাইরের জিনিসগুলো নিয়ে চিন্তা না করে ক্রিকেটারদের উচিত মাঠে যা হচ্ছে তা নিয়ে ভাবা।’
এরকম কারণগুলো এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে ফ্যাকাশে করে দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের আগে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠিন অন্তরায়। তাই দুর্জয় সেমিফাইনাল নয় বাকি ম্যাচগুলোতে দলের আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট দেখতে চান, ‘আসলে মাঠের বাইরের জিনিসগুলো যেহেতু বেশি ইনভলভ হয়ে গেছে এখন এটা থেকে সরে গিয়ে ভালো করা উচিত। আর এখন সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবছি না, চাই বাকি ম্যাচগুলো বাংলাদেশ ভালো করুক।’ বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলতে না পারার আরেকটি বড় বাধা কন্ডিশন কাজে না লাগানো। আরব আমিরাতের কন্ডিশন অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। এই কন্ডিশনে পাকিস্তান ভালো খেলে, এমনকি আফগানিস্তান ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে ছাড় দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ কন্ডিশন কাজে লাগিয়েও ভালো কিছু দেখাতে পারে না। দুর্জয় বলেন প্রতিপক্ষরা নন-এশিয়ান হলেও টি-টোয়েন্টিতে খুব শক্তিশালী। এজন্য বড় কিছু আশাও করা যায় না, ‘নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে একটু সুবিধা নেবে সেটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু এটা তো আইসিসি টুর্নামেন্ট, এখানে আমরা ওভারে চিন্তা করতে পারব না। তবুও যেহেতু এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে আমাদের কন্ডিশন অনেকটাই মিল তাই সুবিধা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপারটা হলো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমরা এখনো সেভাবে মেলে ধরতে পারিনি, উল্টো দিকে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে দেখবেন এই ফরম্যাটে খুব এগিয়ে। তাই এমন কন্ডিশনেও আমরা ওদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারছি না।’