ঠিকাদার ও নকশাকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল ধরেনি

চট্টগ্রামে বহদ্দারহাটের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের পিলারে কোনো ফাটল নেই বলে দাবি করেছেন নকশাকারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা। গতকাল বুধবার র‌্যাম্পটি পরিদর্শন করে এর নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালট্যান্ট লিমিটেড এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি করেন।

ডিপিএম কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ সোবহান বলেন, ‘চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাটলের মতো যেসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা মূলত কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। আর সাটারিংয়ের জন্য দেওয়া ফোম বের হয়ে গেছে। আমরা ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পটির পিলারসহ বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এখানে কোনো ফাটল নেই।’

তিনি বলেন, এই অবস্থায় হালকা যান চলাচলে বাধা নেই। তবে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এরপরও যেহেতু একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাই আরও গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর পর্যবেক্ষণসহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ’

গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের পিলারে ফাটলের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ফ্লাইওভারের আরাকান সড়কমুখী অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ফাটল দেখতে যান। পরিদর্শন শেষে চসিক মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ফ্লাইওভারে হঠাৎ ফাটল দেখে হতবাক হয়েছি। কেননা এ ফ্লাইওভারে আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। গার্ডার ধসে পড়ে অনেক লোক মারা গিয়েছিল। তবে ফাটলের কারণ আমি বলতে পারব না।  এই ফ্লাইওভার সিটি করপোরেশন নির্মাণ করেনি। এটা সিডিএ নির্মাণ করেছে। তবে কী কারণে ফাটল হয়েছে, তা তদন্তপূর্বক বের করা যাবে। যেসব ঠিকাদার ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে তাদের কোনো নির্মাণ ত্রুটি আছে কিনা তা তদন্ত করে সিডিএ ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পে যে ফাটলের কথা বলা হচ্ছে সেটি আসলে ফাটল নয়। যা দেখা যাচ্ছে তা ফলস কাস্টিং।