অতিমাত্রায় সংরক্ষিত দশটি বন হয়ে উঠেছে কার্বনের বড় উৎস। মূলত মানুষের কার্যকলাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বনগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পরিবেশে উল্টো ভূমিকা রাখছে।
বিবিসি জানায়, ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য সাইট থেকে গ্যাস নির্গমন ও শোষণ সম্পর্কিত এক গবেষণায় এ অশনিসংকেতের কথা ওঠে এসেছে।
সেখানে দেখা যায়, গত বিশ বছরে সংরক্ষিত দশটি বন শোষণের চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করেছে।
বিশ্ব ঐতিহ্যের মোট বনের পরিমাণ জার্মানির আয়তনের দ্বিগুণ।
একই গবেষণায় জানা গেছে, ২৫৭টি বিশ্ব ঐতিহ্য বন বায়ুমণ্ডল থেকে বছরে ১৯ কোটি টন কার্বন অপসারণ করে। যা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বছরে যুক্তরাজ্যের নিঃসরণ করা কার্বনের প্রায় অর্ধেক।
ইউনেসকোর এ প্রতিবেদনের সহ-লেখক ড. টেলস কারভালহো রেসেন্ড জানান, জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এর একটি বিস্তারিত চিত্র ওঠে এসেছে এ গবেষণায়।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ২০০১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।
বিলিয়ন টন কার্বন শোষণ করতে গিয়ে বনের গাছগুলো কত চাপের মধ্যে রয়েছে তাও ওঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
গবেষণায় বিষয় হয়ে ওঠা অনেকগুলো বন সরকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পেয়ে থাকে।
সেখানে দেখা হয়, মানুষের কারণে নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী বনগুলো। এর মধ্যে রয়েছে কৃষির জন্য জমি দখল ও অবৈধভাবে কাঠ লুণ্ঠন।
এ ছাড়া মানবসৃষ্ট দাবানল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। যেমন; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, সাইবেরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দাবানল কোটি কোটি টন কার্বন ড্রাই অক্সাইড নির্গত করেছে।