আশুলিয়া থানার কাঠগড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী এলিম সরকার (৪২)-কে নিজ ঘরে নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িত সাইফুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় পিবিআই।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ রাত ১০টার দিকে রাতের খাওয়া শেষে বাদী মো. ফজল হক সরকারের ছেলে এলিম স্ত্রী-সন্তানসহ ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকাল ৮টার দিকে পুত্রবধূ ক্যামিলি জরুরি প্রয়োজনে বাদীর বাড়িতে আসে এবং বাড়ির অন্যদের সঙ্গে আলাপ শেষে ১০টার দিকে ফিরে যায়। বাড়ি ফিরে গলার নিচে ১টি, পেটে ১১টি ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের ১টি কাটা নিয়ে মৃত এলিমকে পায় ক্যামিলি। ভিকটিমের স্ত্রীর ডাক চিৎকারে ও কান্নাকাটি করতে থাকায় বাদীসহ অন্যরা এসে খাটের ওপর মৃতদেহ দেখতে পায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত ২১ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন তারা। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে ওঠে আসে পরকীয়ার তথ্য।
আরও জানান, এর আগে গ্রেপ্তার রবিউল করিম পিন্টু আশুলিয়া এলাকায় পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে এলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগাতে গিয়ে ক্যামিলির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পিন্টুর।
বিষয়টি টের পেয়ে এলিম স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে প্রকাশ করে দেবেন বলে জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মারাত্মক কলহের সৃষ্টি হয়। পরকীয়া বিষয়টি যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে, এ জন্য ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ক্যামিলি ও পিন্টু মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিন্টু বন্ধু সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের দিন ২৮ মার্চ সকাল ৯টার দিকে ক্যামিলির পরামর্শে তার বাসায় প্রবেশ করে। আগের রাতে পিন্টুর দেওয়া ঘুমের ওষুধ দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে এলিম সরকারকে খাইয়ে দেয় ক্যামিল। এরপর সকালে পিন্টু ও সাইফুল চাকু দিয়ে ঘুমন্ত ভিকটিমকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় এলিম সরকারের বাসার সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআর খুলে নিয়ে যায় তারা।
বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ডিশ ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রচার করতে থাকে ক্যামিলি।
পরবর্তীতে আদালতে পিন্টু ও ক্যামিলি হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ নিয়ে মামলায় জড়িত মোট তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি সাইফুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান।