গত বছরের জুলাইয়ে সমুদ্রে ডুবে মারা যান অলিম্পিক-জয়ী অস্ট্রেলিয়ান স্নোবোর্ডার অ্যালেক্স চাম্পি পুলিন। এর ১৫ মাস পর তার সন্তানের জন্ম দিলেন প্রেমিকা এলিডি পুলিন। খবর সিএনএন।
অ্যালেক্স স্নোবোর্ডিং-এ দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। অলিম্পিকে অংশ নেন তিনবার। ক্যারিয়ার ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
গত জুনে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গর্ভধারণের কথা প্রকাশ করেন এলিডি। সেখানে জানান, তিনি ও অ্যালেক্স অনেক দিন ধরে সন্তানের স্বপ্ন দেখছিলেন। অবশেষে অ্যালেক্স না থাকলেও এলিডি কন্যা সন্তানের মুখ দেখলেন।
‘ডার্লিং, শাইন’ পডকাস্টে এলিডি জানান, সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার ডিম্বাণুর সমস্যার কারণে তা ব্যাহত নয়। তারপরও আরও কয়েক মাস হয়তো চেষ্টা করতেন, কিন্তু আগেই অ্যালেক্স চলে গেল। তাই কৃত্রিম গর্ভধারণের ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি মা হলেন।
এলিডি মেয়ের নাম রেখেছেন মিনি অ্যালেক্স পুলিন, তার জন্ম হয় ২৫ অক্টোবর।
মৃত অ্যালেক্সের লাখ লাখ শুক্রাণু থেকে টেকসই একটি বাছাই করে চিকিৎসক আইভিএফের মাধ্যমে তার ও অ্যালেক্সের উত্তরসূরিকে পৃথিবীর আলো দেখান বলে জানান এলিডি।
গর্ভধারণকে ‘তিক্ত মধুর’ অনুভূতির বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে মাতৃত্বের আনন্দ, অন্যদিকে এ সুখ ভাগাভাগি করার জন্য অ্যালেক্স বেঁচে নেই।
মৃত্যুর আগে ৮ বছর সম্পর্ক ছিল অ্যালেক্স ও এলিডির। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের আইন অনুসারে, অ্যালেক্সের মৃত্যুর ৩৬ ঘণ্টার মাঝে তার শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়।
২০২০ সালে জুলাইয়ে কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের সমুদ্র সৈকতে অ্যালেক্স পুলিনের নিথর দেহ পাওয়া যায়। তিনি পাম সৈকতে স্পেয়ারফিশিং করছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ম্যানসফিল্ড শহরে বেড়ে ওঠেন অ্যালেক্স। আর মাত্র ৮ বছর বয়সেই স্নোবোর্ডের দীক্ষা পান তিনি।