কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হাতের আঙুল কেটে নেয়ার অভিযোগ

ঢাকার ধামরাইয়ে নৌকার নির্বাচনী মিছিলে হামলা চালিয়ে মারধর ও কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হাতের আঙুল কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এ সময় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।

তাদের উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সুয়াপুর বাজার ব্রিজের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- নৌকার সমর্থক উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামের মো. বাবর আলী (৩৫), শিয়ালকুল গ্রামের মো. মমিনুল (৪৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (২৮), আব্দুর রাজ্জাক (৪২) ও আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল হালিমসহ (৪০) আরও ১০ থেকে ১৫ জন।

হামলার শিকার নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিম বলেন, ‘দুপুরের দিকে মিছিল নিয়ে ভোট প্রার্থনার জন্য সোয়াপুর বাজার দিয়ে যাবার সময় নৌকার মিছিলে অতর্কিতে হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেন ও তার কর্মীরা। এ সময় সোহরাব তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে আমার কপালে ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। একই সঙ্গে পাশে থাকা আরেকজন কোপ দিয়ে আমার ডান হাতের দুই আঙুল কেটে দিয়েছেন।’

নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি প্রচারণায় যাচ্ছিলাম। পথে সোহরাবের লোকজন হামলা চালিয়ে আমার ছেলের আঙুল কেটেছেন। এ ছাড়া দেশীয় অস্ত্রসহ আমার আরও ৮ থেকে ১০ জন কর্মীকে আহত করেছেন তারা। আহত সবাই ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে সুয়াপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহরাব হোসেনকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সাকিমুদ্দিন বলেন, ‘দুপুরের দিকে আমরা বাজারে কথাবার্তা বলছিলাম। তখনই নৌকার লোকজন এসে ঝামেলা করে। এতে চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।’

ধামরাই থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) নির্মল কুমার দাস বলেন, হামলার ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশের দুটি টিম পাঠিয়েছি। বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান করায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা বেগম বলেন, আমরা ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। তবে পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পুলিশ অবস্থান করছে। অভিযোগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।