শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সংহতি

স্টাইল ক্র্যাফট লিমিটেডের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে ৫ দিন ধরে শ্রম ভবনে শ্রমিকদের অবস্থানে সমর্থন জানিয়ে শনিবার বিকেল ৪টায় শ্রম ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশ করেছে ৮টি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র কেন্দ্রীয় নেতা রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের সদস্যসচিব মফিজুর রহমান লালটু, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রিপন জ্যোতি চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল মুমিন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন’র সভাপতি মিতু সরকার এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র সভাপতি ইকবাল কবির।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘কোনোপ্রকার টালবাহানা না করে অবিলম্বে শ্রমিকদের পাওনা বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে এবং কারখানা খুলে দিতে হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘যদি মালিক এবং সরকার শ্রমিকদের পাওনা টাকা অবিলম্বে পরিশোধ না করে, শ্রমিকদের এই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যুক্ত হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। তখন কেউ-ই পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।’

শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতনভাতা বকেয়া থাকা এই দেশে এখনো নিয়মিত ঘটনায় রূপান্তরিত হয়েছে। কাজেই এই যে বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান সেটার জন্য শুধু মালিক পক্ষই দায়ী নয় সরকারও দায়ী। এসব ক্ষেত্রে সরকার ও রাষ্ট্র মালিক পক্ষের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। অথচ করোনাকালে এই শ্রমিকদেরই এই রাষ্ট্রে অর্থনীতি রক্ষায় করোনা ঝুঁকিতে পতিত করা হয়েছিল, যে অর্থনীতিতে কোনো দিনও এই কারখানার শ্রমিকেরা কোনোকালেও সুরক্ষিত ছিল না।’

উল্লেখ্য, স্টাইল ক্র্যাফট লিমিটেডের শ্রমিক এবং কর্মচারীরা গত পাঁচ দিন যাবৎ শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এখনো পর্যন্ত মালিকপক্ষ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী কেউই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তারা শুধুমাত্র বৈঠকের নামে কালক্ষেপণ করছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে টালবাহানা করছে। অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর করছে না।