গাজীপুরের শ্রীপুরে হেলাল উদ্দীন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে জটিলতা আর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি নিহতের সন্তানের প্রহারেই বৃদ্ধ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ছেলের দাবি তার বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন বাগ্বিতণ্ডা হলেও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তার বাবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে মরদেহ পড়েছিল।
শুক্রবার রাতে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের নিজমাওনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলাল উদ্দীন গাজীপুর সদরের তেলিপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল বারীর ছেলে।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছেলে আবদুল কাদির তার বাবাকে মারধর করেছে। বিকেলে বাড়ির পাশে দোকান মোড়ে এসে এমন কথাও জানান হেলাল উদ্দীন। পরে বিকেলে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় এলাকাবাসী ছেলের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের ছেলে আবদুল কাদির বলেন, তার বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। এ জন্য মাঝে মধ্যে তার বাবাকে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া হতো। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে মাদক সেবন নিয়ে।
তিনি আরও বলেন, বাবার স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়রা জটিলতা তৈরি করেছেন। তারা মৃত্যুর পর লাশ বাড়িতে নিতে দেয়নি। সড়কের পাশেই পড়েছিল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
গাজীপুর ইউপি ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, বৃদ্ধ লোকটির মৃত্যু নিয়ে একটি রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ছোট বোন লাশ দাফনে বাধা দেয়। পাশাপাশি গ্রামবাসীও বাধা দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।