শীতের আগমনে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোশকের কারিগরদের

হেমন্ত মানেই শীতের পূর্বাভাস। রাত শেষে ঠান্ডা শীত শীত হিমেল বাতাস, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুই বলে দেয় শীত আসছে। দেশের মধ্যাঞ্চল ফরিদপুরে শীতের আগমনী বার্তা আসার সঙ্গে সঙ্গে ধুনারীদের (লেপ-তোশকের কারিগর) তুলা ছাঁটাই ও লেপ তৈরির কাজে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।

এক সপ্তাহ ধরে জেলায় শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ মাঠ। সামনে আসন্ন পৌষ ও মাঘের শীত। তাই পদ্মা ও মধুমতীর চরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষ আগেভাগেই লেপ-তোশক বানাতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া মেয়ে-জামাইর বাড়িতে বালিশ, লেপ, তোশক দেওয়ার একটি রীতি রয়েছে এ অঞ্চলে। সব মিলিয়ে লেপ-তোশক কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। কেউ কেউ পুরনো লেপ ভেঙে নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ নতুন তুলা দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন লেপ, তোশক ও বালিশ।

ফরিদপুর শহরের চকবাজারের লেপ-তোশকের কারিগর মালেক মিয়া, হাফিজ মাতুব্বর ও আবদুল জব্বার শেখ জানান, তারা বছরে প্রায় ছয় মাস অন্য কাজ করেন। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন লেপ-তোশকের দোকানে গিয়ে তারা দিনে ৬০০-৭০০ টাকা মজুরিতে, কেউ আবার লেপপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা হিসাবে কাজ করে থাকেন।

শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ের জাকির হোসেনের লেপ-তোশকের দোকান। তিনি বলেন, ‘শীত এখনো জেঁকে না বসলেও অনেকে আগেভাগেই লেপ ও তোশক বানাতে আসছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সারা বছরের চেয়ে শীতের এ তিন মাস বেচাকেনা একটু বেশিই হয়।’

ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার নেওয়ার পাশাপাশি রেডিমেড লেপ-তোশকও বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে শহর ও গ্রামে লেপ-তোশকের ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাকও বেড়েছে। এসব মৌসুমি ফেরিওয়ালা শীত এলে রিকশা-ভ্যানে করে লেপ-তোশক বিক্রিতে নেমে পড়েন। তারা নগদ টাকার পাশাপাশি কিস্তিতেও লেপ-তোশক বিক্রি করেন। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন ক্রেতারা।

শহরের দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় লেপ বিক্রি করতে আসা ফেরিওয়ালা রহিম শেখ বলেন, ‘একটি লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আমরা বিক্রি করছি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার লেপ-তোশক তৈরির মূল উপাদান কার্পাস তুলা ১৩০-১৫০ টাকা, ‘বোনা তুলা’ ১১০-১২০ টাকা, চাদর তুলা ৮০-৯০ টাকা এবং গার্মেন্টস তুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সুরুজুল আমিন জানান, ফরিদপুর অঞ্চলে শেষ রাতে শীত পড়া শুরু হয়েছে। এ বছর মাটির আর্দ্রতা ও তাপ ধারণক্ষমতা কম থাকায় শীতের বার্তা আগে থেকে অনুভব হচ্ছে।