বাংলাদেশে পাশ্চাত্যের অর্থপুষ্ট এনজিওগুলো শিল্প পুলিশ গঠনের বিরোধিতাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।
শনিবার সন্ধ্যায় শিল্প পুলিশের ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, এতদিন আমরা বিশাল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করছি। বিশেষ করে বিদেশি অর্থে লালিত এনজিওগুলো একটা বিশাল ভেজাল লাগানোর চেষ্টা করছিল। তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করেছিল যেন এখানে শিল্প পুলিশ না হয়।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, এক সময় আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা মনে করতেন এটা দিয়ে মনে হয় শ্রমিকদের ঠেঙ্গানো হবে। বিষয়টা এখন আমি দেখি উল্টো। শ্রমিকদের ত্রাণকর্তা হিসেবে এখন শিল্প পুলিশ আবির্ভূত হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসমন্বয় এবং শিল্পের বন্ধন তৈরি করার জন্য এখন শিল্প পুলিশ কাজ করছে। মালিক আর শ্রমিকের প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্প পুলিশ শিল্প সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে আজকে আমাদের রপ্তানি ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই অঞ্চলে ইকোনমিক পাওয়ার হাউজ হতে চাই। ইকোনমিক পাওয়ার হাউজ হতে হলে ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকের হাতে হাত রেখে ইস্পাত ঐক্য করতে হবে এবং ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
শিল্প পুলিশে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, গাজীপুর আর আশুলিয়ার মধ্যে কিন্তু আমাদের শিল্পাঞ্চল সীমাবদ্ধ নেই। সব জায়গায় শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণের জন্য এই শিল্প পুলিশের সম্প্রসারণ দরকার। কারণ আমরা ৩৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করছি। আর শিল্প পুলিশের জন্য বাজেট ১৩৬ কোটি টাকা। এতবড় যজ্ঞ প্রোটেকশন দিচ্ছি আমরা মাত্র ১৩৬ কোটি টাকা দিয়ে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের ফোর্স, ইকুয়িপমেন্ট, লজিস্টিক বাড়ানো দরকার। আমাদের মাত্র ছয়টা ব্যাটেলিয়ন আছে। এর মধ্যে আবার ম্যান পাওয়ার ঠিক নাই। কোন ব্যাটেলিয়নে সাড়ে সাত শ লোক, কোনটায় সাড়ে তিন শ। এটারও একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকা উচিত।
প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শ্রম ও কর্মসংস্থা মন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানসহ প্রমুখ।