চিকিৎসক হতে এসে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আকিব (ভিডিও)

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত আকিব হোসেন (২০) নামের এক ছাত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে বর্তমানে চমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আকিব হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত জমে যাওয়ায় শনিবার দুপুরে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরও শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় তাকে আইসিইউ ওয়ার্ডে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, আকিবের ব্রেইনে অপারেশন করতে হয়েছে। ওর ব্রেইনে রক্ত জমে গিয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়। ওই রক্তগুলো সরানো হয়েছে। সরানোর পরেও সে শঙ্কা মুক্ত নয়। এ জন্য তাকে আপাতত ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় চমেক ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারীরা সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চমেকের ৬১তম ব্যাচের মাহফুজুল হক (২৩) এবং ৬২তম ব্যাচের নাইমুল ইসলাম (২০) আহত হন।

রাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল ৯টার দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারীদের একজন আকিব হোসেনকে (৬২তম ব্যাচ) একা পেয়ে বেধড়ক পেটায় আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা।

এ সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার চমেক বন্ধ ঘোষণা এবং সন্ধ্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আকিবের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রবিবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে নওফেলের অনুসারীরা। এতে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সমালোচনা করেছেন ছাত্রলীগ নেতা ইমন শিকদার।

এদিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আকিবের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই পরিণতির জন্য অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের ‘অপরাজনীতিকে দায়ী’ করেছেন।

একজন লিখেছেন, ‘যে ছেলেটাকে মা-বাবা পাঠিয়েছিল ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে, সে ছেলেটাই আজ লাইফ সাপোর্টে। কৃত্রিম ভেন্টিলেশনে যার জীবন এখন লড়ছে।’

চমেকেরই সিনিয়র এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ছেলেটা লাইফ সাপোর্টে। কৃত্রিম ভেন্টিলেশনে যার জীবন এখন লড়ছে। ক্যাম্পাসে লাইফের প্রথমেই যেই হায়েনাদের হাতে তার এই অবস্থা, সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

‘দায়ী কে? আমরা সবাই? নাকি আমাদের কলেজ অথোরিটি, যারা বারবার এসব দেখে ক্যাম্পাস পুলিশের হাতে দিয়েই নিজেদের পাপ মোচন করে? নাকি ছাত্র রাজনীতির সব থেকে নোংরা অধ্যায় যা আরেকটা আবরার হত্যার জন্ম দিতে চাচ্ছে?’ প্রশ্ন এই মেডিকেল শিক্ষার্থীর।