খালেদাকে বিদেশে যেতে না দেওয়া মানবতাবিরোধী: হাসপাতালে নুর

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে না দেওয়াকে মানবতাবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর।

সংগঠনটির আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও নুর শনিবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যান।

এরপর দুপুর ১টার দিকে নবগঠিত সংগঠনটির দুই নেতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

এ সময় নুর জানান, প্রায় এক ঘণ্টা তারা হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় তারা চিকিৎসকের কাছে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিসি জানান, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার অনিয়ম হয়েছে। প্রতিদিন তার নিয়মিত ফলোআপ হয়নি। সেখানেই খালেদার পুরোনো রোগের জটিলতা ফিরে আসে। কারাগার থেকে বের হয়ে কভিড থেকে সেরে উঠলে পোস্ট-কভিড জটিলতার সঙ্গে পুরোনো অসুখ যোগ হয়।  

চিকিৎসক বোর্ড বিএনপি নেত্রীকে ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি  আহ্বান জানান নুর।

তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। খালেদার পাশে যেভাবে সবাই দাঁড়িয়েছে সে আবেদন সরকার ফেলতে পারবেন না। শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

নুর বলেন, সবার আগে মানবাধিকার, তার পরে আইন। খালেদা জিয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এসব বাদ দিলেও একজন নাগরিকের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আরও বলেন, ১৯৮১ সালে এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজ ৪০ বছর পর শেখ হাসিনার আমলে খালেদার জন্য দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা তার চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে জোর আবেদন জানাচ্ছি।

নুর বলেন, সরকার আইনের কথা বলছে, অথচ মন্ত্রী-এমপিরা অহরহ আইন ভাঙছে। বিনা চিকিৎসায় খালেদা মারা গেলে এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে এবং এ জন্য বর্তমান সরকারকে বিচারের মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে গণঅনশনে বসেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাদের কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান গণঅধিকার পরিষদের দুই নেতা।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরদিন ভোরে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার অবস্থা ভালো নয় বলে বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে। মানবিক স্বার্থে হলেও দলীয় প্রধানকে বিদেশ নিয়ে যেতে সরকারের অনুমতি চেয়েছেন তারা। বিদেশ পাঠিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন বাঁচাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এ বিষয়ে সরকার থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না।