জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে গেস্টরুম কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হলটির দ্বিতীয় বর্ষের (৪৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষের (৪৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গেস্টরুমে (অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কক্ষ) ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্তরা সবাই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, গেস্টরুমে ডেকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হয়। প্রায়ই গেস্টরুমে ডাকা হয় তাদের। সেখানে কারণে-অকারণে গালিগালাজ করা হয়। সিনিয়রদের এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন ছাত্র হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তারা ক্যাম্পাসের পাশের এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলটির দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে জানান, সাধারণত রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ২টা-আড়াইটা পর্যন্ত গেস্টরুম কার্যক্রম চলে। এ সময় সিনিয়রদের সালাম না দেওয়া, সালাম দিয়ে করমর্দন না করা এবং নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার মতো ঠুনকো সব অজুহাতে গেস্টরুমে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
তৃতীয় বর্ষের যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গেস্টরুমে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের আতিকুল ইসলাম শাকিল, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মেহেদী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নয়ন, ফার্মেসি বিভাগের আশিক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রান্ত, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাহফুজ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মারুফ ও পরিসংখ্যান বিভাগের ফরিদ। তারা সবাই জাবি শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তানভীর, আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আপন, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের অভি, দর্শন বিভাগের রিশাদ ও অর্থনীতি বিভাগের জিয়াদের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে জুনিয়রদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তারা জাবি শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি গ্রুপের অনুসারী। এর বাইরে জাবি ছাত্রলীগের উল্লিখিত দুই গ্রুপের আরও অন্তত ১০ জন ছাত্রলীগকর্মী গেস্টরুম কার্যক্রমে অংশ নেন বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলে মধ্যরাত পর্যন্ত গেস্টরুম কার্যক্রম চলে। গেস্টরুমে না থাকলে সিনিয়ররা অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। এভাবে হলে থেকে পড়াশোনা করতে পারি না। এদিকে পরীক্ষাও এগিয়ে আসছে। তাই বাধ্য হয়ে হল ছেড়ে ক্যাম্পাসের পাশের এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছি। এমনভাবে আমার আরও কয়েকজন বন্ধু হল ছেড়েছে।’
এদিকে গত সোমবার হলটির ৪৫তম ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীরা ৪৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘মিনি গণরুমে’ রাখার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
গেস্টরুম কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ হেল কাফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলে গেস্টরুম চলার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’