রাজধানীর রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। একরামুল আহসান কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তির পক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ আবেদনটি করা হয়। রিট আবেদনে রুলের আরজি জানানো হয়েছে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চারজনের বিদেশযাত্রার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। বাদী কাঞ্চনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানব পাচারসহ ৪৯টি মামলা করেছিলেন রাজারবাগ পীরের অনুসারীরা।
আইনজীবী এমাদুল হক বশির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিশ^স্ত সূত্রে জানতে পেরেছি রাজারবাগ পীর ও তার তিন অনুসারী বিদেশ যেতে পারেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু হয়েছে। কয়েকজনের নামে ভুয়া মামলা নিয়ে সিআইডি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে সেখানে পীর ও অনুসারীদের নাম এসেছে। সেজন্য আমরা এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সম্পূরক একটি আবেদন করেছি।’
এর আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আদেশে রাজারবাগের পীর ও দরবার শরিফের সম্পদের তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেয়।
একইসঙ্গে দরবার শরিফের কার্যক্রমে জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশের সিটিটিসিকে (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট) নির্দেশ দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
এছাড়া রাজাবাগের পীর ও তার মুরিদ কর্তৃক আট ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে কারা হয়রানি করছে সে বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আট ব্যক্তির পক্ষে উচ্চ আদালতে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন রিট মামলার একজন বিবাদী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত না করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।