ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ, জাবিতে ১৯ ছাত্রলীগকর্মী ‘হল ছাড়া’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধে ১৯ ছাত্রলীগকর্মীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ছাত্রলীগকর্মীরা হলে ফিরতে পারেননি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শহীদ রফিক-জব্বার হলের মাঠে ইয়াকুব-মিশু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়।

বুধবার টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে হলের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা টুর্নামেন্টের আয়োজক ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

পরে ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীদের হলের গেস্টরুমে ডেকে নেয় ৪৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা। সেখানে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

হলটির ৪৭তম ব্যাচের এক ছাত্রলীগকর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গেস্টরুমে আইন বিভাগের তুরাগ, ইতিহাস বিভাগের কেফায়েত, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের তানভির, পদার্থবিজ্ঞানের হাবিব এবং ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের রবিন আমাদেরকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষিসহ লাথি মারতে থাকে। এতে আমাদের কয়েক বন্ধু আহত হয়ে পড়ে।

৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলছেন, মারধরের পর গেস্টরুম থেকে ৪৭তম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের হয়ে যেতে বলে ৪৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওই পাঁচজন বের হয়ে গেলে ৪৭তম ব্যাচের বাকি ছাত্রলীগকর্মীরাও হল ছেড়ে যেতে চায়। এ সময় ৪৭তম ব্যাচের উপর আবারও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

‘তখন ৪৭ ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীরা গেস্টরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে। সে সময় আকাশ নামে ৪৭ ব্যাচের এক ছাত্র মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।’

এরপর হলের ৪৫তম ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীরা রড, স্ট্যাম্প, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিচে নেমে আসে। এতে ভীত হয়ে ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীরা নিজেদের কক্ষে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এরপরই হলটির কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের শব্দ পান শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ওই রাতে ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দুটি এবং ৪৭ ব্যাচের একটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ৪৭তম ব্যাচের কক্ষটিতে ভাঙচুরের সময় কাচের আঘাতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসান আল মাসুদ আহত হয়।

কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনার পর ৪৭ ব্যাচের ১৯ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে হল থেকে বিতাড়িত করে ৪৫ ও ৪৬ ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা।

কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৫ ও ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করছে।

৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৪৫তম ব্যাচের সাকিব, রমিম, রকি নিজেরাই কক্ষ ভাঙচুর করে আমাদের দোষারোপ করছে।

৪৫ ও ৪৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবি, উত্তেজিত হয়ে ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা দুইটি কক্ষ ও হলের ফুলের টব ভাঙচুর করেছে। একইসঙ্গে মারধরের অভিযোগ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিচে আসার ঘটনা অস্বীকার করেছেন তারা।

এদিকে ৪৭তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৪৫তম ব্যাচের আহসান আমিম ফাহিম ও মো. সোহেল রানা।

অভিযোগপত্রে তারা বলেন, হলের ২৩৭ ও ২৩৮ নম্বর কক্ষে তারা থাকতেন। বুধবার রাতে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের ওই দুই কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহীদ রফিক-জব্বার হলের কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনার একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি৷ বিষয়টি হলের অভ্যন্তরীণ হওয়ায় হল প্রশাসন দেখবে। এর বাইরে কোনো প্রয়োজন পড়লে আমরাও সহযোগিতা করবো।’

শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমাধান করা হবে।