আনন্দ মোহন কলেজের হল বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটকে জেলার অধীনে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে আনন্দ মোহন কলেজ ও জেলা ছাত্রলীগের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আনন্দ মোহন কলেজের হল বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমান উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আবাসিক হল বন্ধের ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে ছেলেদের এবং রবিবার সকাল ৮টার মধ্যে মেয়েদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববার সকালে আনন্দ মোহন কলেজে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হল বন্ধ ঘোষণার পর থেকে হল ছাড়তে শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী হল বন্ধের ঘোষণা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়।

হল বন্ধের ঘোষণাকে অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি জানিয়েছেন হল বন্ধের ঘোষণা যেন বাতিল করা হয়।

কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তাদের শিক্ষাজীবনে অনেক ক্ষতি হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনেকের পরীক্ষা। সকলেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এখন হল বন্ধ আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটকে জেলার অধীনস্থ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন এবং কলেজ শাখা মহানগর শাখায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ নিয়ে দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের অন্য একটি অংশ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এতে করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শনিবার সন্ধ্যায় কলেজের সব হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমাদের আওতায় আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের ইউনিটটি দিয়েছে। তবে এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আনন্দ মোহন কলেজে ককটেল ফাটানোর অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক না।

মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহমেদ অনি বলেন, মহানগরের কোনো ছাত্রলীগ নেতা বা কর্মী আনন্দ মোহন কলেজে যাননি। শুনেছি, সেখানে জেলা ছাত্রলীগ ককটেল ফাটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ অবশ্যই সিদ্ধান্তটি পুণ:বিবেচনা করবে।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমান উল্লাহ বলেন, অনেক দিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা এবং এইচএসসি পরীক্ষা চলছে যার ফলে ক্লাস এখন বন্ধ আছে। এই পরীক্ষাগুলো শেষ হলেই জানুয়ারি মাস থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে অন্যান্য কার্যক্রম চলছে।

‘গতকালে ঘটনা যেহেতু রাজনৈতিক ব্যাপার এর জন্য আপাতত হলের শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ হলকে কেন্দ্র করেই আনন্দ মোহন কলেজের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং হলের ছেলেদেরকেই নানাভাবে বিভিন্ন পক্ষ তাদের সাথে মিছিল মিটিং-এ যুক্ত করে।’

তিনি আরও জানান, ছেলেদের তিনটি হল এখন কার্যক্রম রয়েছে আর মেয়েদের জন্য চারটি হল রয়েছে। হলের ছাত্রসংখ্যা এক হাজার। কলেজের শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৮৮৯জন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে দূর-দূরান্তর শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন। যেকোনো পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।