সোনাগাজীতে স্কুল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ফেনীর সোনাগাজীর প্রত্যন্ত জনপথ পূর্ব তুলাতুলি গ্রামে গড়ে ওঠা দাতব্য একমাত্র বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

রবিবার সকালে মানকবন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টি চালুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।

জানা যায়, ২০১৫ সালে গড়ে ওঠা মুন্সি খুরশিদ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে বৃত্তি সহকারে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঝরেপড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেয়েরা। উপজেলার ৫ গ্রামের পাঁচ বছরে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়ালেখা করে আসছে। গত দুই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল দুটি ব্যাচ, এবারও রয়েছে ১৫জন পরীক্ষার্থী ।

মুন্সি খুরশীদ আলমের ছেলে ব্যারিস্টার নুরুল হক ও আনোয়ারা বেগম হক দম্পতি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সভাপতি ব্যারিস্টার নুরুল হকের ভাতিজা আহমদ আল আক্তার প্রতিষ্ঠাটি আর চালাবেন না মর্মে ঘোষণা দেন এবং সকল শিক্ষার্থীদের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হঠাৎ স্কুল বন্ধের ঘোষণায় শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েন।

বিবি ফাতেমা মাহি নামের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী জানান, ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়ছি কিছুদিন পর পরীক্ষা, হঠাৎ স্কুল বন্ধের ঘোষণা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছি না।

জেসমিন আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, বিনা মূল্যে পড়ানোর কথা বলায় বাবা-মা রাজি হয়ে স্কুলে ভর্তি করান, এখন স্কুল বন্ধের খবরে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল কামাল সিদ্দিক জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৬৪ জন শিক্ষার্থী ৯ জন শিক্ষক ১ জন অফিস সহকারী রয়েছে। এখানে শিক্ষার মান ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক, হঠাৎ দৃশ্যমান কোনো কারণ ব্যতিরেকে বিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা আমাদের মর্মাহত করেছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নুরুল হক দম্পতি কখনো তারা মারা গেলও বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ ও অর্থ রেখে যাবেন, কোনো খরচ বহন করতে হবে না শিক্ষার্থীদের পরিবারকে, সম্পূর্ণ খরচ বহন করবেন তারা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি আহমদ আল আক্তার মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নুরুল হক ও আনোয়ারা বেগম হক অসুস্থ থাকায় অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে। অন্য বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বিদ্যালয়ের নামে কোনো জায়গা জমিনও নেই।