নাসিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বিএনপির ২ নেতা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন কিনেছেন স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা। তারা হলেন- মহানগর বিএনপির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এর মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন। এবার বিএনপি নির্বাচনে না গেলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়বেন বলে জানিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আলাদাভাবে তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তারা। এ সময় উভয় প্রার্থীর সঙ্গেই বিএনপির দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এই দুই নেতা সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণে দলের কোনো আপত্তি নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নির্দেশনা পেয়ে এবং জেলার শীর্ষ নেতাদের মতামত নিয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। পরবর্তীতে দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান এই দুই প্রার্থী। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের ব্যাপারেও তারা আপত্তি তোলেন। ব্যালট পেপারের ভোটকেই উভয় প্রার্থী নিরাপদ মনে করছেন।

রবিবার দুপুর ১টায় প্রথমে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মানুষের ভোটের অধিকার নেই। যে কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ অনেকগুলো দল বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংসদ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। ইতিপূর্বে দল থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে অপর নির্দেশনা রয়েছে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে দল থেকে আপত্তি থাকবে না।

অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত বলেন, আমি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলাম। দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দল যদি নির্বাচনে আসে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করব। দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার সমর্থনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করব। তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ না নিলে নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিয়ে আমি নির্বাচনে থাকব।

এ সময় আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে ইভিএম প্রত্যাহার করে ব্যালট পেপারে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কিছুক্ষণ পরই আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। পরে তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট শাখাওয়াতের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সঙ্গে কথা বলেছি ও তাদের মতামত নিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা চাই।

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের ব্যাপারে আপত্তি তুলে এটিএম কামাল বলেন, দেশের মানুষ এখনো ইভিএমে অভ্যস্ত নয়। আমি অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এটা বাতিলের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করব। আমি আশা করছি সরকার একটি সুষ্ঠু পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে এবারের সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করবে।

এর আগে ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান। তবে অপর প্রার্থী এটিএম কামাল এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।