ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার যে কোনো অধিনায়কের পরম আরাধ্য অ্যাশেজ জয়। বিশ্বকাপের চেয়েও অ্যাশেজ জয়কেই বেশি প্রাধান্য দেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটও তেমনি। অ্যাশেজ জয় তারও স্বপ্ন। তবে সেটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হতে হবে। নেতৃত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় আগের সিরিজটি মোটেও সুখকর ছিল না তার জন্য। হেরেছিলেন ৪-০ টেস্ট। সেবারই প্রথম অ্যাশেজে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা ছিল রুটের। এরপর ঘরের মাঠে ২০১৯ অ্যাশেজও জিততে পারেননি। ড্র হয়েছিল সেবার ২-২ টেস্টে। রুটের কাছে মনে হচ্ছে তার নেতৃত্ব কেমন সেই উত্তর একমাত্র অ্যাশেজই দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জিতলেই কেবল নিজেকে সফল বলবেন রুট।
২০১৫ সালে অ্যালিস্টার কুকের নেতৃত্ব প্রতিপক্ষের মাটিতে সবশেষ অ্যাশেজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০১৭-১৮ তে অস্ট্রেলিয়া তা পুনরুদ্ধার করে। গত সিরিজটি ড্র হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার কাছেই আছে ভস্মপাত্রটি। রুট এবার তা দেশে নিয়ে যেতে চান। ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু সিরিজে। তার আগে ব্রিসবেনে ট্রফি উন্মোচনে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই আমি সিরিজটা জিততে চাই। আপনারা দেখেছেন ইংলিশ অধিনায়কদের জন্য বরাবরই অ্যাশেজ জেতাটা কত কঠিন। এটা এমন একটা ব্যাপার যা প্রতিনিয়ত হয় না। ওই দিক থেকে এই অ্যাশেজ জয় আমার নেতৃত্বকে ব্যাখ্যা করবে। আমি এতটা ভীত নই যে আগে থেকে বলব অ্যাশেজ জিততে পারব না, তবুও বলতে হবে আমার জন্য এটা দারুণ সুযোগ।’
এই অ্যাশেজের অপেক্ষায় ছিলেন ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জিতে অবসরে যেতে চান তারা। এছাড়া মার্ক উডকে নিয়ে দারুণ বোলিং আক্রমণ আছে ইংল্যান্ডের। সঙ্গে বিশ্রাম থেকে ফিরে এই সিরিজেও দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন গত অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হার থেকে বাঁচানোর নায়ক বেন স্টোকস। রুটের অ্যাশেজ জয়ের অভিযানে যা সবচেয়ে বড় সংবাদ। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিয়েই এ সিরিজটি জয়ের পথে ইংল্যান্ড কতটুকু এগিয়ে সে ব্যাপারে রুট বলেন, ‘আমাদের দলটা যেমন আছে তাতে অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারি। এটা হতেই হবে। দলে কিছু ক্রিকেটার, ব্যক্তিদের পারফরম্যান্স, চিন্তা দেখে আপনিও সেটা ভাববেন। গত কয়েক সিরিজে তারা দলকে যা দিয়েছে এটা অবিশ্বাস্য। অভিজ্ঞ যারা আছেন তারা দলের জন্য অসংখ্যবার সাফল্য বয়ে এনেছেন। জুনিয়র যারা আছে তারা জানে এই সিরিজটা তাদের জন্য কী। গত কিছু সিরিজে তারা নিজেদের সাফল্যের ছিটেফোঁটা দেখিয়েছে। এবার আসল মঞ্চ পেয়েছে। সবাই তাই নিজেদের সময়টার ভালো কাজে লাগানোর দিকে তাকিয়ে। আমি নিজেও একজন অ্যাশেজ ক্রিকেটার। আমি এবারও নেতৃত্ব দিচ্ছি। এখানে (অস্ট্রেলিয়া) সিরিজটি জিতলে আমি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অংশ হতে পারব। আমার সামনে সুবর্ণ এক সুযোগ।’
ওদিকে ইংলিশ অধিনায়কের উইকেটেই হবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলেছেন নতুন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ‘আমি জানি না, অধিনায়কত্ব আমার জন্য আলাদা কিছু নিয়ে আসবে কি না। তবে গত কয়েক সিরিজ আমরা যখন তার (জো রুট) বিপক্ষে খেলেছি, সবসময়ই তার উইকেটটি আমাদের জন্য ছিল মূল্যবান। সে এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান এবং তাদের (ইংল্যান্ড) অধিনায়কও। তাই তার সঙ্গে লড়াইটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’