রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গণপরিবহনে দুই ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এ ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন নারায়ণগঞ্জের কাপড় ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন (৩৫), বিদ্যুৎ বিভাগের সরকারি চাকুরে দাইয়ান (৪৫) ও নকশিকাঁথার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ (৩৭)।
আমজাদ হোসেনের শ্যালক মো. রনি দেশ রূপান্তরকে জানান, তার ভগ্নিপতি নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ এলাকায় থাকেন। সেখানে তার কাপড়ের দোকান আছে। সেখান থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে রামপুরার একটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আসমানি পরিবহনের একটি বাসে চড়েছিলেন। বাসের মধ্যেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সব টাকা হারিয়েছেন। তারপর বাসের লোকজন অচেতন অবস্থায় তার ভগ্নিপতিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে নামিয়ে চলে যায়। পরে সেখানকার লোকজন তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনদের ফোন করলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, রামপুরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার বাবা। সেখানকার চিকিৎসার বিল পরিশোধের জন্যই তার ভগ্নিপতির টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
এদিকে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ লালবাগ জোনের কর্মচারী মো. দাইয়ানকে। তার চাচাতো ভাই মো. রাজিব জানান, দাইয়ানের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায়। সেখান থেকে গতকাল দুপুরের দিকে রাজধানীর লালবাগে যাওয়ার কথা ছিল। পথে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে নেমে সেখান থেকে আবার দোয়েল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ওই বাসের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। পরে ওই বাসের কর্মচারীরা তাকে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের পাশে এনে নামিয়ে দেন এবং তার সঙ্গে থাকা ফোন থেকেই স্বজনদের খবর দেন। তার কাছে থাকা নগদ টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কত টাকা নিয়ে গেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, বিকেলের দিকে প্রায় আধঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তিন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা। তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।