স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে এবারও ছিটকে গেল মোহামেডান স্পোর্টিং। যাদের কাছে দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছিল সাদা-কালোরা, সেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গতকাল বিকেলের খেলায় মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়া মোহামেডান সমতায় ফিরেছিল। কিন্তু তাদের দরকার ছিল জয়। সেটা পারেনি ২০১৪’র চ্যাম্পিয়নরা। পয়েন্ট সমান হওয়ায় মোহামেডানের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় ‘সি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয় সেনাবাহিনী। আর ৩ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় সাইফ।
ম্যাচের শুরু থেকেই সাইফ ছিল আক্রমণাত্মক। কিন্তু মোহামেডানের পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে ছিলেন গোলরক্ষক বিপু। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আর পারেননি তিনি। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের লম্বা ক্রস প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমফন সানডে উদোহ। মোহামেডানের পথটা হয়ে যায় আরও কঠিন। ৫৩তম মিনিটে সতীর্থের আড়াআড়ি ক্রসে সাহেদ পা ছোঁয়ানোর আগেই বিপু ছুটে এসে ক্লিয়ার করে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি। ইনজুরি টাইমের শুরুতে কর্নার থেকে হেডে সমতা ফেরান মেসিনোভিকি। তাতে মোহামেডানের আশার পালে লাগে কিছুটা হাওয়া। কিন্তু শেষের বাঁশির বাজার সঙ্গে সঙ্গে তা মিইয়েও যায়।
বৃষ্টিসিক্ত মাঠে বিকেলের খেলায় প্রথম গোল খেয়ে বসে সেনাবাহিনী। ৮ মিনিটে দিদারুল ইসলামের ফ্রিকিক তারেক মিয়া হেড দিয়ে বল সামনে বাড়ান; ছোট বক্সের ভেতরে ফাঁকায় থাকা ইউনুসা কামারার শট ক্রসবারে লেগে ফেরার পর সামনে থাকা মিসরের ফরোয়ার্ড আইমান আহমেদের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৮৮ মিনিটে সমতায় ফিরে সেনাবাহিনী। রঞ্জুর ফ্রিকিকে সামিউল হক হেডে বল জালে জড়ান। এই গোলই শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিদায় নিশ্চিত করে দেয়।