নাগাল্যান্ডে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ পুলিশের

ভারতের সেনাবাহিনীর ২১ নম্বর প্যারা স্পেশাল ফোর্সের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত গণহত্যার অভিযোগ’ এনে এফআইআর দায়ের করল নাগাল্যান্ড পুলিশ। তার জেরে নতুন করে নাগাল্যান্ড-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বে আবারও আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট (আফস্পা) প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।

স্বরাষ্ট্র কমিশনার অভিজিৎ সিং রবিবার রাতেই দাবি করেছিলেন, নাগাল্যান্ডের ওটিংয়ে গত শনিবারের ঘটনার জন্য দায়ী সেনা কমান্ডোদের ‘ভুল খবর’ ও ‘নিয়ন্ত্রণহীন গুলি চালনা’।

সোমবার পুলিশ তাদের এফআইআরেও লিখেছে, ‘পুলিশকে কোনো খবর না দিয়েই কমান্ডোরা গ্রামবাসীদের আসার পথে ওত পেতে ছিল। গ্রামবাসীদের গাড়ি দেখেই তারা বিনা প্ররোচনায় গুলি করে লোক মেরেছে। গ্রামবাসীদের হত্যা বা জখম করাই ছিল সেনার উদ্দেশ্য।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম দফায় কমান্ডোরা ৬ জনকে গুলি করে মারে। এরপর তাদের মৃতদেহ আনতে গেলে ৭ গ্রামবাসীকে হত্যা করে তারা। জখম করে ২২ জনকে। এর পরে কমান্ডোরা যথেচ্ছ গুলি চালাতে চালাতে অসমের দিকে পালায়। জখমদের আরও একজন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ছয় সপ্তাহের মধ্যে ওটিংয়ের ঘটনার রিপোর্ট দিতে বলেছে কেন্দ্র ও নাগাল্যান্ড সরকারকে।

সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ওটিংয়ের ঘটনায় গ্রামবাসীদের আক্রমণে মারা গেছে ২১ প্যারা এসএফের কমান্ডো গৌতম লাল। ওই ঘটনায় ১৫ জন জওয়ান জখম হয়েছেন। তাদের দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, এত জন জওয়ান মোটেই জখম হননি।

এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর হাতে থাকা বিশেষ ক্ষমতার আফস্পা আইন প্রত্যাহারের দাবি করেছে এনপিপি ও এনডিপিপি। এই দুটি আঞ্চলিক দলই বিজেপি নেতৃত্বাধীন উত্তর-পূর্বের জোট নেডা তথা এনডিএ-র শরিক। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা এনপিপি জাতীয় সভাপতি কনরাড সাংমা উত্তর-পূর্বে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি জানান। নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার আফস্পা বিরোধী মিছিল হয়েছেন। কংগ্রেসের তরফেও অভিযোগ আনা হয়, আফস্পা বলবৎ থাকার ফলেই বছরের পর বছর সেনা ও আধাসেনা সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে।