ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া এলাকার এক মেসে স্থানীয়দের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পাশ^বর্তী ত্রিবেনী এলাকার রবিউল ইসলাম মেসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে প্রক্টরিয়াল বডির উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিবেশ শান্ত হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম।
এ ঘটনা শুনে পাশ^বর্তী মেসের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসে। এমনকি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করার প্রস্তুতি নেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর শৈলকুপা থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।
পাশাপাশি পুলিশ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার আশ্বাস দেন। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সুলতান মাহমুদ, ভূগোল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল রানা, সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম নাঈম ও দাওয়াহ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রহমান।
ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাতে খাওয়া শেষে আমরা রুমে বসে গল্প করার সময় জাহিদ ভাই এসে আমাকে ডাকে। আমি বের হওয়ার পর মেসের সামনে উনি আচমকা আমার উপরে চড়াও হয়। উনি অভিযোগ করেন গত রাতে আমাদের চিল্লাপাল্লায় ওনাদের ঘুম ভেঙে গেছে। আমি তখন বলি গত রাতে তো আমরা তেমন চিল্লাচিল্লি করিনি। তবে যদি হয়েও থাকে আমরা পরবর্তীতে সতর্ক থাকবো।’
‘তখন তিনি আবারো রেগে যান। তখন আমার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী বলে আমরা এমন চিল্লাপাল্লা করিনি। তিনি ওই শিক্ষার্থীর ওপরেও চড়াও হয়। তিনি বলতে থাকেন বুঝেছি তোমাদের এভাবে বললে হবে না, তোমরা বেশি বেড়ে গেছ। তারপরও আমরা বলি এমন ভুল আর হবে না। উনি হুমকি দিয়ে পাশেই বাসায় চলে যায়। পরে মেস মালিককে জানাই। কিছু পর উনি অনেক লোকজন নিয়ে আসে। শিক্ষার্থীরা সবাই ভিতু হয়ে যায়। আমাকে তারা বের হতে নিষেধ করে। এর মাঝে ওরা ১৫-২০ জন এসে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে। আমি বের হলে সবাই মিলে মারতে শুরু করে।’
কামাল আরও বলেন, ‘মারার সময় ওরা কেউ ইট উঠাইছে, কারো হাতে লাঠি। আল্লাহ বাঁচাইছে। ছেলেরা না থাকলে হয়ত আমাকে মেরেই ফেলত। আমাকে বাঁচাতে এসে এরাও কয়েকজন আহত হয়।’
এদিকে এই ঘটনার পর আবারও উত্তেজনা শুরু হয় গ্রামটিতে। এর মাঝে বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়। তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়রা আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পরে।
একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপরে চড়াও হয়। পরে স্থানীয় রেন্টু ও রাজু নামে দুজন এলাকাবাসীকে ফোন করে ডাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
এ ছাড়া মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্রিত করার হুমকিও দেয় তারা। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল করিম খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিবেশ শান্ত করে।
এর কিছু পরে পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে দীর্ঘ এই ঘটনায় যথাসময়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কেউ উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের একাধিকবার ফোন করলেও তারা উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এদিকে ঘটনার কিছু পরে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে তারা উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে তাদের উপরে হামলা করেছে এই দায়ভার আমি নিব কি করে ? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'ঘটনা শোনার পরপরই আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে যেতে বলি।
তবে সহকারী বলেন ড. শফিকুল ইসলাম যাওয়ার নির্দেশনা পাননি বলেন জানান।
তিবি বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর প্রক্টর স্যারের নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছিল।’