প্রতি মাসে ২৫ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করে আসছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এখন ধীরে ধীরে টিকার উৎপাদন কমানোর চিন্তা করছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও আদর পুনাওয়ালা।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ওমিক্রন আবহে করোনা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ভারতের ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দুই ডোজ করে টিকা পেয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কোভিশিল্ডের উৎপাদন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।
পুনাওয়ালা দাবি করেন, সরকারের পক্ষ থেকে টিকার খুব বেশি অর্ডার নেই। এই পরিস্থিতিতে তিনি উৎপাদন কমাবেন কিনা, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন।
এই বিষয়ে আদর পুনাওয়ালা বলেন, আমি আসলে এমন একটি দ্বিধায় আছি যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি... আমরা প্রতি মাসে ২৫ কোটি ডোজ তৈরি করছি। কিন্তু ভালো খবর হলো, ভারত তার জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে টিকা দিয়ে ফেলেছে এবং আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের সমস্ত অর্ডার সম্পূর্ণ করব এক সপ্তাহের মধ্যে।
পুনে ভিত্তিক এ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক ফার্ম ইতিমধ্যেই সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, ভবিষ্যতে টিকার দুই ডোজ এবং বুস্টার ডোজ নিয়ে কী চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে টিকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চেয়েছে সেরাম। যেহেতু এখন পর্যন্ত সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে অন্য কোনো অর্ডার নেই তাই এখন উৎপাদন কমানোর কথা ভাবছে।
কোম্পানির তরফে পুনাওয়ালা জানান, ভারতে বা বিশ্বে আবার যখন টিকার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, তখন মাসিক ভিত্তিতে ফের উৎপাদন বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আট মাস ধরে যখন আমরা রপ্তানি করতে পারিনি, অন্যান্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য উৎস থেকে অনুদানের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহ পরিচালনা করেছিল এবং আমরা প্রচুর বাজারের অংশ হারিয়েছি। যদি তাদের বুস্টার ডোজের জন্য আরও ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়, তা জানতে আমরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়েছি। এখন বুস্টার নীতির ওপর এবং তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভার করছে যে তারা পরবর্তী করোনা ঢেউ আসার আগে আরও টিকা সংগ্রহ ও মজুত করবে কিনা। আমরা তাদের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’