রাজবাড়ীর সদর উপজেলার আলীপুরে রাজবাড়ী জুটমিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ সময়ের মাঝে শত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-ফরিদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আলাদীপুর নামক স্থানে অবস্থিত মিলটি শতভাগ রপ্তানিমুখী। কারখানায় তিনটি বিশালাকৃতির ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটের পশ্চিম দিকে জ্বালানি তেলের স্টোরের কাছ থেকে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে রাজবাড়ীর সকল ফায়ার স্টেশনে যোগাযোগ করা হয়। ততক্ষণে আগুন ইউনিটের ভেতরে ছড়িয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে মিলে সতর্ক ঘণ্টা বাজিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এদিন ভোর ৬টায় তিন ইউনিটের প্রায় তিন হাজার শ্রমিক আগেই বেরিয়ে যায়।
সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১ নম্বর ইউনিটের ভেতরে আগুন জ্বলছে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভানোর জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ ইউনিটের চারপাশের দেয়াল আগুনের তাপে ধসে পড়েছে। ভেতরে দেখা যাচ্ছে আগুনের শিখা। চারপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ-আনসার সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।
অগ্নিনির্বাপণে নিয়োজিত ৫টি ইউনিটের প্রধান ফরিদপুর ইউনিট থেকে আসা সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার স্টেশনের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ীর ইউনিটগুলো কাজ করার পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ফরিদপুর থেকে স্পটে হাজির হয়ে যাই। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দসহ মোট ৫টি দমকল ইউনিট একযোগে কাজ করি। আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে পাটে আগুন লাগলে তা নেভাতে অনেক সময় লাগে।
আগুনের সূত্রপাত বিষয়ে জানান, মিল মালিক বা তাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা না বলে কোন মন্তব্য করা যাবে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তেলের ট্যাংক থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
রাজবাড়ী জুট মিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী দিদার আহমেদ জানান, আমি মিলেই ছিলাম। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ১ নম্বর ইউনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই। আগুনের ভয়াবহতা এতই ছিল যে, ভবনের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছিল না।
আরও জানান, এ ইউনিটে মিলের মূল অফিস,আবাসিক ভবন ও জিএম অফিস ছিল। পুরো অফিস ভবন ভস্মীভূত হয়ে গেছে, প্রয়োজনীয় নথিও পুড়ে গেছে। তা ছাড়া মিলের ভেতরে থাকা মূল্যবান বহু যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
কাজী দিদার আহমেদ জানান, প্রায় ২০০ কোটির টাকা ব্যাংক ঋণে গড়ে এ কারখানায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করে। ২০০৮ সালে নির্মিত এ জুট মিল পরিচালকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলেছি। এখন দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে তিনি জানান।