যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাত, ১০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যসহ ৫টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২৪টি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডোটি আঘাত হেনেছে কেনটাকিতে। এর আঘাতে অন্তত ১০০ জন মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে আঘাত হানা ওই টর্নেডোকে  অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডো হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই টর্নেডোতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার বলেন, ‘আমাদের ধারণা মৃতের সংখ্যা ৫০ জন ছাড়িয়ে যাবে, সম্ভবত ৭০ থেকে ১০০ জনের কাছাকাছি প্রাণ হারিয়েছে’।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, চারটি টর্নেডো রাজ্যে আঘাত করেছিল, যার মধ্যে একটি সম্ভাব্য ২০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে। পশ্চিম কেনটাকিজুড়ে অন্তত ১৫টি কাউন্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গ্রেভস কাউন্টির মেফিল্ড শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে একটি মোমবাতির কারখানায় ১১০ জন আটকা পড়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত কয়েক ডজন মারা যেতে পারেন।

টর্নেডোটি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আঘাত হেনেছে। ইলিনয়ে  অ্যামাজনের একটি গুদামে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ক্রেগহেড কাউন্টির বিচারক মারভিন ডে বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, টর্নেডোর ফলে আরকানসাসের একটি নার্সিং হোম আংশিকভাবে ভেঙে পড়ায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অন্তত ২০ জন মানুষ। টর্নেডো আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন ওই ভবনের বেজমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

টর্নেডোটি রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হপকিন্স কাউন্টিতে প্রচণ্ড বাতাসে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে সেখানকার শেরিফ ম্যাট স্যান্ডারসন স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন।

টর্নেডো আঘাত হানার পর কেনটাকিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আরকানসাস, ইলিনয়, কেন্টাকি, মিসৌরি এবং টেনেসি এই পাঁচটি রাজ্যে কমপক্ষে ২৪টি টর্নেডোর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনওএএ (NOAA) স্টর্ম প্রেডিকশন সেন্টার। আরকানসাস এবং ইলিনয়েও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

একটি টর্নেডোর আরকানসাস থেকে কেনটাকি পর্যন্ত বিশাল দূরত্ব (২২৭ মাইল) পাড়ি দিয়েছে, যা সম্ভবত ১৯২৫ সালের পর কোনো টর্নেডোর সবচেয়ে লম্বা দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার ঘটনা।