বহুতল ভবনে আগুন, দগ্ধ ৩

রাজধানীর বাংলা মোটরে বহুতল একটি ভবনে আগুন লেগে অন্তত তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আর কে টাওয়ার নামে দশতলা ওই ভবনের সাততলায় গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট, পরে আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলে।

আগুনে ভবনটির সাততলায় কর্মরত বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারী দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধরা হলেন মামুন খান (৩২), মানিক ফকির (২০) ও তাফসির মিয়া (২৬)।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইয়ুব হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুনে মামুনের শরীরের ৩৪, তাফসিরের ৭ ও মানিকের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে মামুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাসফির ও মানিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আগুন লাগা আর কে টাওয়ারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ভবনটির সাততলায় আগুন দেখতে পান তারা। এরপর হুড়মুড় করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন তারা। আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা। ভবনটির নিচতলা ও তিনতলায় সিরামিকের বিভিন্ন দোকান রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচতলায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে কাজ করা কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। ভবনটির ছয় ও সাততলায় শিশুদের খেলনা ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির গুদাম ছিল। যেগুলোর অধিকাংশই আগুনে পুড়ে গেছে।

আর কে টাওয়ারের সাততলার রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব কর্মকর্তা আবু সাঈদ দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুন লাগার সময় তারা তিনজন অফিসে কাজ করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ করেই তারা অফিসে ধোঁয়া দেখতে পান। একই সময় আগুন আগুন চিৎকার শুনে নিচে নেমে যান। তার ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেইন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আর কে টাওয়ারে আগুন লাগার খবর পাওয়ার প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে দেয়। পরে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়ে দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। পরবর্তী সময়ে বিকেল ৪টার দিকে সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলি।’

তিনি জানান, আগুনে ভবনটির সাততলার একটি প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারী দগ্ধ হয়েছেন। আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভবনের অন্যান্য তলার লোকজন সিঁড়ি দিয়ে নিরাপদে বের হয়ে যান।

উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সাততলার ফ্লোরটিতে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির গোডাউন ছিল, সেখান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বেচাবিক্রি করতেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো। আমরা ধারণা করছি, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই আগুন লাগে। সাততলার ফ্লোরেই আগুন সীমাবদ্ধ ছিল, যার কারণে অনেক প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ওই ফ্লোরে প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রীও ছিল, যেগুলো আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।’