র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করে উল্লেখ করে সংস্থাটির মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, র্যাব বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করে থাকে।
রবিবার দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটায় উপকূলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা বিধান বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় র্যাব মহাপরিচালক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
র্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৭ কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র্যাব বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করে থাকে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন যদি কোনো কাজ করে, তখন জুডিশিয়াল সিস্টেমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেটার তদন্ত করে থাকেন। থানার পুলিশও এটা তদন্ত করে। আমরা কিন্তু তদন্ত করি না। এরপর যদি মামলা করার প্রয়োজন হয় তাহলে মামলা হয়ে থাকে। এরপর এটা ইনভেস্টিগেশন হয়, জুডিশিয়াল প্রসেসে যাচাই বাছাই হয়। এরপর ইন্ডিপেনডেন্ট জুডিশিয়ারি যে সিদ্ধান্ত দেয় সেই অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া আমাদের স্বাধীন মিডিয়া রয়েছে, সুশীল সমাজ রয়েছে এখানে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয় না।
তিনি বলেন, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করেছি, সাগরও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দস্যুতা করে কেউ পার পাবে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই সুন্দরবন দস্যুমুক্ত রাখতে র্যাব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
র্যাব প্রধান বলেন, যে সকল জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছি। যে যেভাবে সহযোগিতা চেয়েছে তাদেরকে সেই ভাবে সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই ডাকাতি ছেড়ে জলদস্যুরা সমাজে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নির্বাহ করুক।
মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে বেলা পৌনে ১টায় বরগুনার পাথরঘাটা স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এরপর জেলেপল্লিতে জেলে ও মৎস্যজীবীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় সুধীজনের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে সম্প্রতি হামলায় নিহত এক জেলের পরিবারকে ১ লাখ টাকা ও জলদস্যুদের হাত থেকে ফিরে আসা ৯ জেলেকে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করেন র্যাব মহাপরিচালক।
মতবিনিময় সভায় র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক প্রমুখ।
সভায় স্থানীয় জেলেরা নিরাপত্তার জন্য উপকূলীয় জেলা বরগুনায় র্যাবের ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান।