ষাটোর্ধ্ব বয়স এবং সম্মুখযোদ্ধাদের করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
সোমবার কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক কোভিডের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় কমিটির কাছে মতামত চেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী কমিটি বৈঠক করে তাদের সুপারিশ জানিয়েছে।
পরামর্শক কমিটির ৪৯তম সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘কোভিডের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত টিকা নিশ্চিত করে ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনার, যাদের দুই ডোজ টিকা অন্তত ছয় মাস আগে দেওয়া হয়েছে, এমন জনগোষ্ঠীকে কোভিডের বুস্টার ডোজ দেওয়া যেতে পারে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সারাদেশে ইতোমধ্যে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৬ জন টিকার অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। আর তাদের মধ্যে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ৬৯১ জন দুটি ডোজ পেয়েছেন।
এই হিসাবে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার মোটামুটি এক চতুর্থাংশ কোভিড টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন।
বুস্টার ডোজ দিতে গেলে হাতে পর্যাপ্ত টিকাও থাকতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সরকারের হাতে এখন ৪ কোটি ডোজ টিকা মজুদ আছে।
এদিকে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন টিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
রবিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণে মনে হচ্ছে, সংক্রমণ এবং তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে টিকার যে কার্যকারিতা, তাকে কমিয়ে দিচ্ছে ওমিক্রন।’
ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এখন পর্যন্ত ৬০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ওমিক্রন আক্রান্ত দুই রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অতি সংক্রামক এই ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।