রাজধানীর গুলিস্তানে ময়লার গাড়িচাপায় নটরডেম কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ জন গাড়িচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজেদের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা গাড়ি বহিরাগত লোকদের দিয়ে চালানো।
সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির সচিব দপ্তর গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ৯ চালকের মধ্যে ৭ জন ময়লাবাহী গাড়ি (ভারী) চালক ছিলেন। বাকি দুজন সংস্থার হালকা গাড়ি চালাতেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ময়লাবাহী গাড়িচালকেরা হলেন- কাউছার আলী, বেলায়েত হোসেন, ফরিদ আহমেদ, মো. আবদুল্লাহ, জামাল উদ্দিন-২, কবির হোসেন-২ ও রবিউল আলম। আর হালকা গাড়িচালকেরা হলেন আজিম উদ্দিন ও নূর জালাল শিকদার।
সংস্থার সচিব দপ্তর সূত্র বলছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও অদক্ষতার অভিযোগে ৮ ডিসেম্বর এসব চালককে বরখাস্ত করা হয়।
সংস্থার সচিব স্বাক্ষরিত অফিস আদেশগুলোতে বলা হয়, এসব চালকের অনুকূলে গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হলেও নিজে না চালিয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়িচালক নন, এমন ব্যক্তিকে দিয়ে অবৈধভাবে গাড়ি চালনা করে আসছিলেন তারা। নিয়মিত গাড়িচালক গাড়ি না চালিয়ে অন্য কোনো সাধারণ গাড়িচালক কর্তৃক ভারী গাড়ি চালনার জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে এবং প্রাণহানিসহ জানমালের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
চালকদের এমন কার্যকলাপ করপোরেশনের শৃঙ্খলাপরিপন্থী এবং সংস্থার সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন এসব চালক কেবল বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন।
গত ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের মৃত্যু হয়। ওই গাড়ি করপোরেশনের চালক (ভারী) ইরান মিয়ার অনুকূলে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পরিবহন পুলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বহিরাগত হারুন নামের এক ব্যক্তির হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেন। হারুন অবশ্য ওই গাড়ি নিজে না চালিয়ে বহিরাগত রাসেল নামের এক ব্যক্তির কাছে গাড়িটি তুলে দেন। পুলিশ বলছে, নটর ডেম কলেজ শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়ার সময় দক্ষিণ সিটির ময়লাবাহী গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন রাসেল।