জোড়া যমজ লাবিবা ও লামিসাকে আলাদা হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একদল চিকিৎসক এই দুই শিশুকে আলাদা করার জন্য এক দফা অস্ত্রোপচার করেছেন। কিন্তু কিছু জটিলতা থাকায় তাদের আলাদা করা যায়নি। এটা করতে আরও অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার শেষে গতকাল দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন লাবিবা-লামিসাকে আলাদা করতে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। তাদের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৫ জন চিকিৎসককে নিয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফ উল হক কাজল গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব হয়নি জোড়া শিশু লাবিবা-লামিসাকে। ঝুঁকি এড়াতে আরেকটি ধাপে তাদের সম্পূর্ণ আলাদা করা হবে।
ডা. কাজল বলেন, শিশু দুটির যোনিদ্বার ও মলদ্বার খুবই কাছাকাছি। আজই তাদের আলাদা করতে গেলে লামিসা ঝুঁকিতে পড়বে। একটি শিশুকে ক্ষতি না করে তাদের আলাদা করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজকের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই অংশে “সিলিকন বল” স্থাপন করে দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে সেই বল স্যালাইন পুশ করে ফুলিয়ে সেখানকার টিস্যুগুলোকে প্রসারিত করা হবে।’
ডা. কাজল বলেন, ৩২ জন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারে যুক্ত ছিলেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। এই অস্ত্রোপচারে ন্যূনতম ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। শুরুর আড়াই ঘণ্টা পর তারা বুঝতে পারেন শিশু দুটি আজ (গতকাল) আলাদা করা সম্ভব হবে না। ্রঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি জটিল। এ ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে চমৎকারভাবে কাজ করছেন চিকিৎসকরা। শিশুদের আলাদা করতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে। সব খরচ হাসপাতাল থেকে বহন করা হচ্ছে। শিশুদের বাবা লাল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওদের নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। দ্জুন দুই মনের। একজন কান্না করলে আরেক জন হাসে। দুজনে আবার মারামারিও করে। ওদের আলাদা করতে পারলে বড় ধরনের চিন্তামুক্ত হতে পারতাম।’