চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদ্রাসা পরিচালনার নেতৃত্ব নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কলিমউদ্দিন মাতবর গোষ্ঠী ও মধ্যমপাড়া সোসাইটি গোষ্ঠীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কলিমউদ্দিন মাতবর গোষ্ঠীর মো. ইসমাইল, শাখাওয়াত সোহেল, আবদুর রহমান, নুর খান, মো. ইসমাইল এবং মধ্যমপাড়া সোসাইটি গোষ্ঠীর মো. ইকবাল, মো. ইমন, মো. ইউসুফ, আবদুর রহিম, মো. আলমগীর, ফরহাদ ছোটন, মো. ইব্রাহীম, আবু তাহের ও মো. রুবেল। আহতদের মধ্যে সাখাওয়াত সোহেল, ইকবাল ও ইমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুধকুমড়া মদিনাতুল উলুম ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন কলিমউদ্দিন মাতবর গোষ্ঠীর লোকজন। কিন্তু দাতাসূত্রে ওই মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব পেতে মেনা গাজীর গোষ্ঠীর সঙ্গে চারটি বাড়ি এক হয়ে মধ্যমপাড়া সোসাইটি নামে একটি সংগঠন গঠন করে। গত কয়েক দিন ধরে ফেইসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখিও করেন দুপক্ষের লোকজন। এর জের ধরে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুপক্ষের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ১৪ জন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ঘরের জানালা ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
কলিমউদ্দিন মাতবর গোষ্ঠীর মো. এরফান বলেন, ‘অন্তত ৫০ বছর ধরে মাদ্রাসাটি আমরা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু একটি পক্ষ এটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠলে এ ঘটনা ঘটে।’ তবে মধ্যমপাড়া সোসাইটি গোষ্ঠীর কামালউদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসাটি আমাদের হলেও জোর করে দখলে রাখেন প্রতিপক্ষের লোকজন। তাই আমরা মাদ্রাসা চালানোর কথা বললে তারা মারামারি শুরু করে।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোখসানা আক্তার বলেন, আহত ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন এখানে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বাকি তিনজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ওসি এসএম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার নেতৃত্ব নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হলে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।