বেরোবির অর্থনীতি ও সাংবাদিকতা বিভাগে অচলাবস্থা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অর্থনীতি বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে জনি পারভীনকে অপসারণের দাবিতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষকেরা ক্লাস–পরীক্ষা নিচ্ছেন না। অন্যদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ১২তম ব্যাচের ১ম সেমিস্টারে কোনো ক্লাস না নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া এবং ২য় সেমিস্টারেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লাস শুরু না করার প্রতিবাদে কোর্স শিক্ষক তাসনীম হুমাইদাকে পরিবর্তন করে দেওয়ার লিখিত অভিযোগ জানানোর পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে ওই ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুরে অর্থনীতি বিভাগের ছয় শিক্ষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর দেওয়া হয়।

ছয় শিক্ষক হলেন অধ্যাপক মোরশেদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, শাফিউল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, বেলাল উদ্দিন ও প্রভাষক নেওয়াজ মোস্তফা। স্মারকলিপিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিভাগীয় প্রধানের অপসারণের দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জনি পারভীন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরের বছর মার্চ মাস থেকে করোনা মহামারি দেখা দেয়।

সমস্যা প্রসঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষক এবং অর্থনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মোরশেদ হোসেন বলেন, বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তিনি (জনি পারভীন) যোগদানের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে গত বছরের (২০২০) ১ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিটি গঠন করেন। এর প্রতিবাদ করা হলেও তিনি বিষয়টি আমলে নেননি। তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাইলেও তিনি কিছু বলতে চান না।

অন্যদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং করোনাভাইরাসের  কারণে  সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হয় ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে। দীর্ঘ এক বছরে অন্যান্য কোর্সের ক্লাস শেষ করে ফাইনাল হলেও, ফান্ডামেন্টাল অফ কমিউনিকেশন কোর্সের একটা ক্লাস না নিয়ে কোর্স শিক্ষক তাসনীম হুমাইদা কেবল কয়েকটি শিট দিয়ে ফাইনাল পরীক্ষা নেন। ফলে একটি ক্লাস না নিয়েই সেমিস্টার শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনাল পরীক্ষার আগে মিড সেমিস্টার, ইনকোর্স পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সেসবের তোয়াক্কা না করে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে মিড ও ইনকোর্স পরীক্ষা নেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে ক্লাসের জন্য তাকে ফোন কিংবা এসএমএস করলে নানা অজুহাত দেখিয়ে ক্লাস নিতেন না। এমনকি করোনাকালীন বন্ধের সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দেন তখনো অনলাইনে দেখা মেলেনি তার।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাসনীম হুমাইদার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও অনলাইনেও কোনো ক্লাস নেননি। কখনো কখনো ক্লাসের জন্য তারিখ দিলেও ক্লাস হওয়ার আগেই সেই তারিখ আবার পিছিয়ে দিতেন তিনি। এভাবেই সময় অতিবাহিত হয়।

এমন অবস্থায় ২য় সেমিস্টারে আরো একটি কোর্স দেওয়া হয় ওই শিক্ষককে। সেমিস্টার শুরুর দেড় মাস পরও ২য় সেমিস্টারেও কোনো ক্লাস না নিলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে গত ৯ই মে বিভাগীয় প্রধান ড. নজরুল ইসলাম বরাবর কোর্স শিক্ষক পরিবর্তনের লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ দেওয়ার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।

উভয় ঘটনায় বর্তমান উপাচার্যের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য সরিফা সালোয়া ডিনাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দ্রুতই তা প্রকাশ করে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা তাসনীম হুমাইদাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।