যুক্তরাজ্যে একদিনে করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড

যুক্তরাজ্যে দৈনিক নিশ্চিত করোনা সংক্রমণ দুই বছর আগে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। করোনাভাইরাসের আগের ধরন ডেল্টা এবং নতুন ওমিক্রন ধরন উভয়েই একই সঙ্গে দেশটির মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে বলে দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে দৈনিক নিশ্চিত করোনা সংক্রমণ গতকাল বুধবার ৭৮৬১০-এ পৌঁছায়। আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল গত ৮ জানুয়ারির ৬৮০৫৩ জন। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাগরিদের বুস্টার ডোজ নেওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন জানিয়েছেন। কারণ ওমিক্রন ধরন সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত বাড়াচ্ছে।

নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে জনসন বলেন, সরকার বর্তমানে সঠিক পন্থা নিচ্ছে।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে, বরিস জনসন বলেন, তিনি পাব এবং রেস্তোঁরা বন্ধ করছেন না। তবে লোকদের সেসব স্থানে ‘যাওয়ার আগে সাবধানে চিন্তা করার’ পরামর্শ দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের চিফ মেডিকেল অফিসার ক্রিস হুইটি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটতে চলেছে। তিনি মানুষকে সামাজিক মেলামেশা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রফেসর হুইটি বলেন, দেশ ‘একটির উপরে দুটি মহামারী’ অনুভব করছে। একটি ‘খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া’ ওমিক্রন চালিত এবং অন্যটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট চালিত।

তিনি বলেন যে, ওমিক্রন ‘একদম অসাধারণ গতিতে এগিয়ে চলেছে’ এবং যুক্তরাজ্য খুব অল্প সমযয়ের মধ্যে ‘খুব বড় সংখ্যক’ সংক্রমণ দেখতে পাবে।

‘আমি ভয় পাচ্ছি আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহে বারবার রেকর্ড ভাঙার  ঘটনা ঘটবে, কারণ সংক্রমণের হার অবিশ্বাস্যভাবে বাড়তে থাকবে’।

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চলতি মাসের শেষদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ইংল্যান্ডে এখন ১৮ এর বেশি বয়সীরা তাদের দ্বিতীয় ডোজের দুই মাস পরে বুস্টার ডোজের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল সতর্কতা দিয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রন অবিশ্বাস্য হারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের ৭৭টি দেশে এ পর্যন্ত নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, হয়তো আরো অনেক দেশেই ছড়িয়েছে এই ভ্যারিয়েন্ট যা এখনো শনাক্ত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি যে এই ভাইরাসকে শুরুতে একেবারেই গুরুত্ব দেইনি আমরা। এখন অমিক্রন যদি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগও হয়ে থাকে, আক্রান্তের হারে যে ঊর্ধ্বগতি তার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রস্তুত নয়, ফলে আবারো পুরো পৃথিবীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি বেকায়দায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে’।

গত নভেম্বর মাসে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকাতে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়, এবং দেশটিতে এখনো পর্যন্ত নতুন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে প্রথম জানানো হয় ২৪শে নভেম্বর।