কাউন্সিলর হত্যা: অস্ত্র-গুলি আসে পাহাড়ি এলাকা থেকে

কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ জোড়া খুনে গ্রেপ্তার এমরান হোসেন ওরফে রিশাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা আক্তারের আদালতে হাজির করা হলে তিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ডিবি সূত্র রিশাতের বরাত দিয়ে জনান, কাউন্সিলর সোহেল খুনের জন্য ব্যবহার করা অস্ত্র-গুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল পাহাড়ি এলাকা খাগড়াছড়ির এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। এসব অস্ত্র কিনতে অর্থ লেনদেন এবং কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া শাহআলমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল তার।

জবানবন্দিতে তিনি কিলিং মিশনে অংশ নেয়া, হিট স্কোয়াডে থাকা অন্যদের নাম প্রকাশসহ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে মামলার তদন্ত সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে।

তবে এখনই অস্ত্র সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রিশাত কাউন্সিলর খুনের ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে এমনটি জানা গেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের একটি সূত্র থেকে।

ওই সূত্রটি জানায়, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে শাহআলমের নেতৃত্বধীন মাদক সিন্ডিকেটটি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল সোহেলের ওপর। সেটিই কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে প্রতিপক্ষ।

ডিবি সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ কিলিং মিশনে থাকা সদস্য ও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত এবং তদন্তে পাওয়া আসামি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী গ্রামের রিশাত ও কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকার মো. নাজিম ওরফে নাদিমকে সোমবার গ্রেপ্তার হন। মঙ্গলবার তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বুধবার নাজিম কাউন্সিলরকে হত্যার পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে তথ্য দেন। পরে সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্য আসামি রিশাত পুলিশের কাছে কিলিং মিশনে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহ ও ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। কুমিল্লার আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা আক্তার তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি সত্যজিৎ বড়ূয়া সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে রিশাত। সহযোগীসহ কাউন্সিলরের কিলিং মিশনে থাকার পাশাপাশি সে অস্ত্র সরবরাহ করে। সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে অভিযান চালানো হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় আগে গ্রেপ্তার আরো চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা হলেন আলম মিয়া, আশিকুর রহমান রকি, মাসুম ও জিসান।

এ মামলার প্রধান আসামি শাহআলম, আসামি সাব্বির হোসেন ও সাজন পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গত ২২ নভেম্বর নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৮-১০ জনের নামে মামলা করে।