৮ম দফায় ভাসানচরের পথে ৫৫২ জন রোহিঙ্গা

অষ্টম দফার প্রথম ধাপে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে যাচ্ছে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ২১৭টি পরিবার। তাদের মধ্যে ৫৫২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ৩৮৯ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে আটটি বাস, একটি খালি বাস ও অ্যাম্বুলেন্স পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে বিকেলে পাঁচটি বাসে ৯২ পরিবারের ১৬৩ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম রওনা হয়। গতকাল রাতে চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকার পর আজ শনিবার নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাদের ভাসানচরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অষ্টম ধাপে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে স্বেচ্ছায় ক্যাম্প ত্যাগ করেছে রোহিঙ্গারা। গত বৃহস্পতিবার তাদের উখিয়া কলেজ ও ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। তাদের গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ানো হয়। এছাড়া হাত খরচের জন্য প্রতি পরিবারকে কিছু নগদ টাকা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝিরা জানান, স্বেচ্ছায় রাজি হয়ে এর আগে ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গারা সেখানকার পরিবেশ, থাকা-খাওয়ার সুবিধা উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের জানালে তারা যেতে রাজি হয়েছে। তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রথমে উখিয়া কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। পরে সব প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জাহাজে করে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হবে।

গতকাল রোহিঙ্গা শিবিরে দেখা যায়, নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভাসানচর স্থানান্তরে রাজি হওয়া রোহিঙ্গারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ও সিক্স মার্ডারের পর ক্যাম্পের অনেকের আতঙ্কে দিন কাটছিল। তাই ভয়ে এবার রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পাশপাশি ভাসানচরের কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ায় তাদের মাঝে যেতে উৎসাহ কাজ করছে।

উখিয়া ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজারের আর্মড পুলিশ-১৪ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) নাইমুল হক জানান, এবার ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের টার্গেট রয়েছে।

২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২, ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪, চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফার ৩ হাজার ২৪২, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় ৩ হাজার ১৮, পঞ্চম দফায় ৩ ও ৪ মার্চ ৪ হাজার ২১, ষষ্ঠ দফায় ১ ও ২ এপ্রিল ৪ হাজার ৩৭২ এবং সপ্তম দফায় ৩৭৯ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া গত বছর মে মাসে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৩০৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়।