ইভটিজিংয়ের অভিযোগে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) হাতুড়ি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তুফান চৌধুরী একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাজুকে হাতুড়িপেটা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোবহান সড়ক এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মোনায়েম হোসাইন মুন্না বলেন, ‘আমি, রাজু এবং আমাদের অপর এক সহপাঠীর সঙ্গে মুদি দোকানে যাচ্ছিলাম। এ সময় আমাদের কিছুটা সামনে একটা আমাদের অপরিচিত মেয়ে ছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম, তবে মেয়েটিকে নিয়ে আমরা কোনো ধরনের আলোচনা করিনি। পথিমধ্যে আমাদের এক পরিচিত ভাইয়ের মেসে রাজুর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। আমরা ভেবেছিলাম জিনিসপত্রগুলো একসঙ্গে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরেই মেয়েটি তার মেসের মালিককে ডেকে নিয়ে আসে এবং অভিযোগ করে আমরা তাকে অনুসরণ করছি। আমরা তখন তার এই অভিযোগ অস্বীকার করি এবং বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়। বাড়িওয়ালা রাজুর পূর্ব পরিচিত হওয়ায় একপর্যায়ে তিনি আমাদের চলে যেতে বলেন। কিন্তু আমরা যখন ফিরে আসছিলাম তখন বাড়িওয়ালার বড় ছেলে মোরশেদ চৌধুরী ছুটে এসে রাজুকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে।’
মুন্না আরও বলেন, ‘আমরা মোরশেদ চৌধুরীকে থামানোর চেষ্টা করি কিন্তু একপর্যায়ে মোরশেদ চৌধুরীর ছোট ভাই এবং বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তুফান চৌধুরী একটি হাতুড়িসহ ছুটে এসে রাজুকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। আমরা একপর্যায়ে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হই, বিভাগের শিক্ষকদের জানাই। পরবর্তীতে শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজুকে উদ্ধার করে।’
এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং একজন ছাত্রীসহ চারজনের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’